দুপুরের পরে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্রের দ্রুত পুনরুদ্ধার দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে যেকোনো লুট অস্ত্র যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করা উচিত, যাতে ভোটের সময় কোনো অনধিকারী ব্যবহার না করতে পারে।
বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন সরকারি ও নির্বাচনী কর্মকর্তার অংশগ্রহণ ছিল। বৈঠকের শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিতদের কাছে বৈঠকের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন।
শফিকুল আলমের মতে, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্বে অস্ত্র পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ লুট অস্ত্রের ব্যবহার ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক, ইলেকশনের আগে যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করা দরকার।”
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি তীব্রতর হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, এবং বুধবার প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রচারমাঠে নামবে। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও সমতামূলক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
কয়েকটি দল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কিছু দল নির্বাচনের থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও বিশদভাবে আলোচনা হয়। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রায় ৪২,০০০ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে ৬,৫৫২টি কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ক্যামেরা রয়েছে।
বাকি কেন্দ্রে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশেষভাবে ২১,৯৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে প্রতি স্থানে কমপক্ষে ছয়টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভোটের সময় কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বাকি ভোটকেন্দ্রগুলোতে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় অর্থায়ন ও উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে এই কাজটি সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্যোগকে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, লুট অস্ত্রের দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ভোটের সময় কোনো অনধিকারী হস্তক্ষেপ রোধে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে পারে, তবে দলগুলোর অভিযোগ ও সমালোচনা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়বে। তাই, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয় ও তৎপরতা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে, যদি লুট অস্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকরভাবে কাজ করে, তবে ভোটের ফলাফলকে অধিকতর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে। তবে, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



