২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে অর্ধশতাধিক স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করেছে। এই পদক্ষেপটি মিয়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকায় সম্পন্ন হয়।
অভিযানটি সকালবেলা শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি কর্মীরা সমন্বিতভাবে এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই ধরণের পদার্থ সাধারণত মাটির পৃষ্ঠে বা অল্প গভীরে স্থাপন করা থাকে এবং চাপ প্রয়োগে সক্রিয় হয়।
বিজিবি ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এই ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, “সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত অংশগুলো হোয়াইক্যং বিজিবি ফাঁড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
একটি স্থলমাইন সাধারণত চারটি মূল অংশ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চাপ প্লেটটি মাটির ওপর বা সামান্য নিচে বসে থাকে; যখন কোনো ভারী বস্তু বা ব্যক্তি তার ওপর দিয়ে যায়, তখন মাইনটি সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। তাই এই অংশের দ্রুত সনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
উদ্ধারকৃত চাপ প্লেটগুলোকে তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরণবিহীন অবস্থায় রাখতে বিশেষ প্রশিক্ষিত এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল (ইওডি) ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইওডি দল এই উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করে তাদের কার্যকরী অবস্থা নির্ধারণ করবে এবং নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেবে।
এই ধরণের সীমানা পারাপার কার্যকলাপের পেছনে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী সরঞ্জাম পরিবহন করার সন্দেহ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এই মাইনগুলোর উৎস ও সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করা যায়।
অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক মাইন নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (মাইন বান ট্রিটি) অনুসারে, মাইন উৎপাদন, সঞ্চয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। সুতরাং, এই ধরণের অবৈধ মাইন সরবরাহকারী বা ব্যবহারকারীকে আইনি দায়ের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সীমান্ত অঞ্চলে মাইন সমস্যার সমাধানে এই ধরনের সফল অভিযান দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা প্রমাণ করে। স্থানীয় জনগণও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপদ পরিবেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
সেনাবাহিনী ও বিজিবি ভবিষ্যতেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে, যাতে সীমান্তে মাইন ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সরঞ্জামের উপস্থিতি কমিয়ে আনা যায়। এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উদ্ধারকৃত উপাদানগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ ও প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অগ্রগতি ও তদন্তের ফলাফল জনসাধারণের জানাতে হবে।



