২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে শহীদ আসাদকে সম্মান জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা সভাপতি খায়রুল কবির খোকন উপস্থিত হয়ে দেশের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে যুক্ত করে নতুন বাংলাদেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করেন।
খোকন বলেন, ১৯৯০ সালে দীর্ঘ নয় বছর ধরে ক্ষমতা দখল করে রাখা স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানের মূল অনুপ্রেরণা শহীদ আসাদ ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বে সেই আন্দোলন স্বৈরাচারকে শেষ করে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে। একইভাবে, ১৭ বছর ধরে গায়ের জোরে ক্ষমতা ধরে রাখা ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধেও ছাত্র ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়, যার পেছনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগের আদর্শ কাজ করেছে।
বক্তা আরও জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে শহীদ আসাদের অবদান অপরিসীম। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ আসাদ যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে, শহীদ আসাদের আত্মা শান্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন হোসেন বিদ্যুৎ, এবং বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। এছাড়া, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনও সকাল থেকে আলাপ-আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শহীদ আসাদের স্মরণে একত্রিত হয়।
শহীদ আসাদ দিবসের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নরসিংদী জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আসাদ গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না, ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন স্মরণসভা ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের পুনরুজ্জীবন বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিরোধী দলের সমর্থন বাড়াতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
খোকনের বক্তব্যে উল্লেখিত ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পরিকল্পনা এখনও সরকারী ঘোষণা না হওয়ায় অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, শহীদ আসাদের আদর্শকে রাজনৈতিক প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করা হলে, তা জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।
শহীদ আসাদ দিবসের উপলক্ষে নরসিংদী জেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আলোচনা ও দোয়া সভা, স্থানীয় জনগণকে ঐতিহাসিক স্মৃতি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গঠনে প্রেরণা জোগায়। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হবে, বিশেষত যখন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতা নতুন বাংলাদেশের গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, খোকনের ভাষণ এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে জাতীয় গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। যদিও সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও, এই স্মরণসভা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছে।



