ঢাকার আইডিইবি ভবনে মঙ্গলবার শ্রীমতী জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত থেকে শহীদ প্রেসিডেন্টের আদর্শকে বাস্তব জীবনে রূপান্তর করার আহ্বান জানান। তিনি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সাহস ও সততার গুণাবলিকে তুলে ধরে বললেন, দেশের স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপে তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তা আজকের প্রজন্মের জন্য মডেল হতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের সূচনা করে দেশের স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হন। নিজের জীবন, পরিবার ও সন্তানকে আল্লাহর হাতে ছেড়ে তিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। এই ত্যাগের স্মৃতি আজও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, শহীদ জিয়াকে সত্যিকারের সম্মান জানাতে হলে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে তার আদর্শকে নিজের জীবনের নীতি বানাতে হবে। তিনি বলেন, “যদি আমরা শহীদ জিয়াকে সত্যিকারের শ্রদ্ধা করি, তবে আমাদের প্রত্যেকেরই শপথ নিতে হবে যে আমরা তার মতো দেশপ্রেমিক, সাহসী, সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী মানুষ হব।”
শহীদ জিয়ার সততা ও নৈতিকতা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরোধীও কখনো তার সততার প্রশ্ন তুলতে পারেনি। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকলেও তিনি প্রতিদিন দেশের ও জনগণের স্বার্থে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি জিয়ার অবদানকে অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন। দুর্ভিক্ষে ভুগছিল দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্য উৎপাদনের পথে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নেতৃত্বে চালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, ফলে বাংলাদেশ অন্য দুর্ভিক্ষে ভুগছে এমন দেশগুলোকে চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।
শিল্পোন্নয়নের দিকেও জিয়ার নীতি কার্যকর হয়। তার সময়ে বন্ধ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু হয়, এক শিফটের কারখানা থেকে দুই ও তিন শিফটে উৎপাদন বাড়ে। টেক্সটাইল মিল, সার কারখানা, সুগার মিল, ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা পায়, যা দেশের শিল্প কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
শহীদ জিয়া ছোট ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন। গার্মেন্ট শিল্পের সূচনা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি শ্রমিক শ্রেণীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, যুব মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার দিকেও অগ্রসর হন।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শকে না গ্রহণ করি এবং তার অনুসারে জীবন গড়ে না তুলি, তবে তার জন্মদিন উদযাপন অর্থহীন হয়ে যাবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে আদর্শের বাস্তবায়নে আহ্বান জানান।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতির বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি শহীদ জিয়ার ত্যাগ ও অর্জনকে স্মরণ করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তার আদর্শের প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনার সঞ্চালনা করেন বিএনপি প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর, যিনি আলোচনাকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করেন।
এই সভা শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীকে শুধু স্মরণীয় করে না, বরং তার নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি যদি শহীদ জিয়ার আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



