20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএ-স্ক্যানের মতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে ভোটে প্রতিবন্ধী প্রবেশগম্যতা বাড়ানো সম্ভব

বিএ-স্ক্যানের মতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে ভোটে প্রতিবন্ধী প্রবেশগম্যতা বাড়ানো সম্ভব

বিএ-স্ক্যান বাংলাদেশের মুখপাত্র নুসরাত জাহান মঙ্গলবার ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় জানিয়েছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে ভোটের দিন প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকে সকলের জন্য সহজলভ্য করতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি আগে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCRPD) স্বাক্ষর করলেও, এখনো সংবিধান ও নির্বাচনী কাঠামোর মধ্যে সেই অঙ্গীকারগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। ফলে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে।

নুসরাত জাহান উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বতন্ত্র অধিকারভোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় অতিরিক্ত সংস্কার দরকার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি ইচ্ছা করে, তবে নির্বাচনের পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

বিএ-স্ক্যানের মতে, আইনগত কাঠামোর পাশাপাশি বাস্তবিক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেও ত্বরান্বিত কাজ করা জরুরি। তিনি প্রস্তাব করেন, ভোটে প্রতিবন্ধী অংশগ্রহণ বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে কোটা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিবন্ধী ভোটারকে নিশ্চিত করা যায়। এই ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার তথ্য ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা। বিশেষ করে, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় তথ্যপত্র ও নির্দেশিকা তৈরি করে তাদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা দরকার, যাতে প্রবেশদ্বার, সিঁড়ি, টয়লেট ও ভোটদান কক্ষ সবই প্রবেশযোগ্য হয়।

পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নও অন্যতম অগ্রাধিকার। নুসরাত জাহান উল্লেখ করেন, ভোটের দিন প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে তারা দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রেও সহজে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের সেবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সরকারী দপ্তরের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

বিএ-স্ক্যানের মুখপাত্রের মতে, নির্বাচন কমিশনের হাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের মূল চাবিকাঠি রয়েছে। যদিও সময় সীমিত, তবু তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিবন্ধী ভোটারদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।

এই আলোচনায় উল্লিখিত সুপারিশগুলো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভোটার অংশগ্রহণের পরিসর বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা ও স্বীকৃতি শক্তিশালী হয়। তাই, ভোটে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিএ-স্ক্যানের এই আহ্বান এবং প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য একটি সহজলভ্য ও ন্যায়সঙ্গত ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments