পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা কথায় নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেখাতে হবে বলে জোর দেন। তিনি এই বক্তব্য দেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে, যা দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
সভায় জেলা প্রশাসক শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. আবু ইউসুফ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের বৈঠকগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি মূল্যায়নে নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, যদিও সব বিষয়েই একমত হওয়া সম্ভব নয়, তবে দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনগণ গণভোটে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে। তিনি বলেন, ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বলার ইচ্ছা দেশের উন্নয়নের দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবে। এই পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ভোটদান প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং ফলাফল যাচাইয়ে সহায়তা করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে সব দল ও প্রার্থী সমান সুযোগ পেতে পারে এমন পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। পূর্বে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায়, এইবার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণকে স্বচ্ছতার একটি মূল উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে অতীতের কিছু বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তৌহিদ হোসেনের এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরপেক্ষতা শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়; তা বাস্তবায়িত হওয়া উচিত প্রতিটি পদক্ষেপে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা তৌহিদ হোসেনের কথায় সম্মতি জানিয়ে, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনিক কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করে কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে।
পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. আবু ইউসুফের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচন সংক্রান্ত দপ্তরগুলো ভোটার তালিকা, ভোটার কার্ড এবং ভোটিং মেশিনের প্রস্তুতিতে ত্বরান্বিত কাজ করছে।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াবে এবং ভোটের ফলাফলকে বৈধতা দেবে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করে, কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন প্রদান করবে, যা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে।
অবশেষে, তৌহিদ হোসেনের বার্তা স্পষ্ট: সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র নির্বাচনের সফলতা নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা জোরদার করার মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি দেশের বৃহত্তর নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



