ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আজ দুপুরে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জানায়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দুই বছর পরই ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে এবং তা কোনো বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া জুন‑জুলাই মাসে ভাড়া বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার অধীনে বাড়ির মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পত্তি বাসযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং দৈনিক বর্জ্য সংগ্রহসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সরাসরি সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানালেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ত্রিশ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করলেও উত্তর ও দক্ষিণ দু’টিতে মোট বাড়ির সংখ্যা কেবল দুই থেকে দুই দশলাখের মধ্যে। এর ফলে শহরের বড় অংশই ভাড়াটিয়া, যা বাসস্থানের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, ব্যক্তিগত স্থানান্তর এবং সরকারি-ব্যবসায়িক সুবিধার কেন্দ্রীয়করণ—all এই বিষয়গুলো নগরীর ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, বিশেষ করে আবাসন ক্ষেত্রে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, কোনো শহরে যদি গৃহস্থালী ব্যয় আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি না হয়, তবে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তবে ঢাকায় অনেক পরিবারকে আয়ের অর্ধেকের বেশি, কখনো কখনো ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এই উচ্চ ভাড়া চাপের মূল কারণ হিসেবে ১৯৯১ সালের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনকে জটিল ও অস্পষ্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা স্থানীয় স্তরে কার্যকর করা কঠিন করে তুলেছে।
বছরের পর বছর অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ার পেছনে আইনগত জটিলতা এবং ধীরগতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কাজ করেছে বলে এজাজ ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে, যারা বাড়ি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কিনা—এটাও দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয় ছিল না। নতুন নির্দেশিকায় উভয় পক্ষের স্বার্থকে সমানভাবে বিবেচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাড়ির মালিককে বাড়িটিকে বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। ভাড়াটিয়া যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে জানিয়ে সমস্যার সমাধান চেয়ে নিতে পারবেন; না হলে তিনি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।
এই নীতির লক্ষ্য হল ভাড়া বাড়ার হারকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভাড়াটিয়ার আর্থিক চাপ কমানো। একই সঙ্গে, বাড়িওয়ালার আয় সুরক্ষিত রাখতে বাজারমূল্যের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত লাভের জন্য অযথা ভাড়া বাড়ানো না হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ডিএনসিসির এই পদক্ষেপ শহরের বাসস্থান নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন দিক যোগ করবে। ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কঠোর মানদণ্ড বাস্তবায়ন হলে, ভবিষ্যতে ভাড়া বাড়ার হার কমে যাবে এবং গৃহস্থালীর আর্থিক ভার হালকা হবে বলে আশা করা যায়। তবে বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ ও তদারকি যথাযথভাবে না হলে নীতির প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নির্দেশিকা প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এই নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী করা হবে বলে এজাজ জানান।



