18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রায় ত্রিশ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণে জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬ শুরু

প্রায় ত্রিশ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণে জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬ শুরু

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – জামায়াত‑ই‑ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পলিসি সামিট ২০২৬, মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর একটি হোটেলে উদ্বোধন হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ত্রিশটি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে আলোচনা করেন।

সামিটের অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, কোরিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ব্রুনাই এবং শ্রীলঙ্কা সহ অন্যান্য দেশ অন্তর্ভুক্ত। এ সকল প্রতিনিধি সকালবেলা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সমবেত হয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী দিনের সেশনগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেন।

সামিটের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জকে টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নির্বাচনের পূর্বে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করেন।

ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীনতার ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা মূলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ছিল। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও এই লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি অতীতের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে জানান, গত সতেরো বছর ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহিতা কমে গেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণরা তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে জনসমাবেশে অংশগ্রহণ করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। তিনি এ ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সামিটের সময় কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকও উপস্থিত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রবণতা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তারা উল্লেখ করেন, যদিও সরকারী নীতি কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নমুখী, তবু অধিকার সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন।

প্রতিনিধি দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় নিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকে উভয় পক্ষই অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, সামিটের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। তারা দেশের নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সামিটের শেষ সেশনে ডা. শফিকুর রহমান ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সূচি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নতুন রূপরেখা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।

এই রূপরেখা অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক মাসে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, কৃষি ও শিল্পখাতে আধুনিকীকরণ, এবং যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চালু হবে। এছাড়া, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামিটের সমাপনী মন্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে স্থিতিশীলতা অর্জনই দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ভিত্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রসর হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments