22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরসিংদি জেল থেকে পলায়নকারী অপু আহমেদকে রায়পুরা উপজেলায় ছুরি দিয়ে হত্যা করা...

নরসিংদি জেল থেকে পলায়নকারী অপু আহমেদকে রায়পুরা উপজেলায় ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে

নরসিংদি জেল থেকে জেল ভাঙার সময় পলায়ন করা অপু আহমেদ (বয়স ৪৫) গত রাত্রি রায়পুরা উপজেলার মারজাল ইউনিয়নের একটি কাঠের কারখানায় ছুরি দিয়ে নিহত হয়েছেন। অপরাধের স্থান রায়পুরা থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. কামাল হোসেনের মতে, শিকারের দেহ রক্তমাখা অবস্থায় সকালবেলায় কাঠের কারখানার ভিতরে পাওয়া যায় এবং তা দ্রুতই শনাক্ত করা হয়।

অপু আহমেদকে আটটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের অপরাধ। তার মধ্যে কিছু মামলায় তিনি ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। জুলাই মাসে জেল ভাঙার সময় তিনি পালিয়ে যান এবং তখন থেকে তিনি এলাকার মধ্যে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

রায়পুরা থানার অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. কামাল হোসেন জানান, শিকারের দেহ পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে তদন্তের জন্য ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে অপু আহমেদকে ছয়টি অপরাধের জন্য গৃহবন্দি করা হয়েছিল, তবে জেল ভাঙার পর থেকে তিনি গ্রেফতার করা হয়নি।

ঘটনাস্থলটি মারজাল ইউনিয়নের পহর মারজাল এলাকায় অবস্থিত একটি কাঠের কারখানা, যেখানে রাত্রিকালীন সময়ে অপরাধীরা শিকারের উপর আক্রমণ চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিকারের দেহ রক্তে লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং তা দ্রুতই পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশের মতে, অপরাধের সময় শিকারের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষের রেকর্ড নেই, তবে শিকারের দেহে বহু কাটার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তাকে ছুরিকায় বহুবার আঘাত করা হয়েছে। দেহটি উদ্ধার করার পর, পুলিশ দেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করে।

অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. কামাল হোসেন উল্লেখ করেন, শিকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আটটি মামলার মধ্যে কিছু মামলায় তিনি ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, আর কিছু মামলায় এখনও বিচারাধীন। তিনি জানান, শিকারের অবৈধ অস্ত্রের দখল এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এখনো শিকারের হত্যাকারী বা অপরাধী গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশিত হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রের মতে, শিকারের ওপর আক্রমণকারী গোষ্ঠীটি অপরাধী নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ স্থানীয় এলাকায় গোপন নজরদারি চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে।

অফিসার‑ইন‑চার্জের মতে, শিকারের দেহ উদ্ধার করার পরই পুলিশ দেহটি ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। ফরেনসিক ফলাফল শিকারের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নির্ধারণে সহায়তা করবে।

এই ঘটনার পর, রায়পুরা থানা স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করেছে যে, অপরাধী গোষ্ঠী বা পলায়নকারী ব্যক্তিরা এখনও এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।

অপরাধের তদন্ত চলমান থাকায়, পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করবে।

এই ঘটনার পর, নরসিংদি জেল কর্তৃপক্ষও জেল নিরাপত্তা ও জেল ভাঙার প্রতিরোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। জেল ভাঙার সময় পলায়নকারী অপু আহমেদের পুনরায় গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো হবে।

সামগ্রিকভাবে, রায়পুরা উপজেলায় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি শিকারের অপরাধমূলক পটভূমি ও হত্যার দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করতে কাজ করছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments