শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শাহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্পে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুজুল কবির রিজভী সরকারকে জবাবদিহিতার অভাবে দেশব্যাপী সংকটের মুখে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলতা না থাকায় এক বছর অর্ধেকেরও বেশি সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান হ্রাস, কারখানা বন্ধ এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শ্রমিক ও গৃহস্থালির জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিল্পখাতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, অথচ সরকার থেকে কোনো জবাবদিহিতা বা সমাধানমূলক নীতি দেখা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী সরকারের “ঢিলেঢালা” অবস্থানকে দুঃখজনক বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের অভাব জনসাধারণের নিরাপত্তা বোধকে ক্ষুন্ন করেছে এবং এই অবহেলা ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে।
অধিকন্তু, রিজভী অতীতের ভোটাধিকার হরণকে পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকারকে অবৈধভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল, যা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় নিশ্চিত করা উচিত। এই মন্তব্যের পেছনে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়।
বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্পটি শাহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল এবং এতে রিজভীর বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ ছিল। ক্যাম্পের প্রধান অতিথি হিসেবে রিজভী উপস্থিত ছিলেন এবং তার বক্তব্যের পর উপস্থিত জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পে ঢাকা থেকে আগত প্রায় শতাধিক চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন, যারা পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগীর মধ্যে চিকিৎসা সেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন। চিকিৎসকরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে এসেছেন এবং রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহে তৎপর ছিলেন।
এই দুইটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প—একটি জাজিরা উপজেলায় এবং অন্যটি সদর উপজেলায়—মোট পাঁচ হাজারের কাছাকাছি মানুষকে সেবা প্রদান করেছে। ক্যাম্পের আয়োজনের লক্ষ্য ছিল দরিদ্র ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে অক্ষম জনগণকে মৌলিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করেছে।
ক্যাম্পের সময় সরকারী কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, ফলে এই সমালোচনা ও স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের মধ্যে রাজনৈতিক পারস্পরিক ক্রিয়া স্পষ্ট হয়নি। তবে রিজভীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী দিক থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না পাওয়া বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রিজভীর এই ধরনের সরাসরি সমালোচনা এবং বৃহৎ জনসেবা উদ্যোগের সমন্বয় সরকারকে জনমত সংগ্রহে চাপের মুখে ফেলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে। যদি সরকার এই সমালোচনার প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দেয়, তবে তা বিরোধী দলের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রুজুল কবির রিজভীর জবাবদিহিতা, আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত মন্তব্য এবং একই সময়ে শাহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর সম্মানে অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের এক সমন্বিত চিত্র তুলে ধরেছে।



