মঙ্গলবার, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আব্রার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার লক্ষ্যকে শুধুমাত্র বই‑ভিত্তিক ফলাফল থেকে দূরে সরিয়ে, খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও নেতৃত্বের মতো ক্ষেত্রেও মেধা বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বই ও পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হচ্ছে, যা বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের অন্যান্য প্রতিভা প্রকাশের সুযোগকে সংকুচিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীর মেধা কেবল একাডেমিক ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; বহুমুখী গুণাবলি গড়ে তোলাই প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য।
এদিকে, তিনি বলেন, দেশের দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায়ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা উন্মোচিত হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে মেধা কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা জানে না। এই বাস্তবতা থেকে প্রশ্ন উঠে, জাতি হিসেবে আমরা কতটা সমান সুযোগ দিয়ে এই প্রতিভাকে লালন‑পালন করছি।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানও উপদেষ্টার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, মোট পুরস্কারপ্রাপ্তের ৫৭ শতাংশ নারী, আর ৪৩ শতাংশ পুরুষ। বাংলা ও ইংরেজি রচনা ও ইংরেজি বক্তব্য বিভাগে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যা ভবিষ্যতে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোর দেয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে হলে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিতে না পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে “ভালো স্কুল”ে রূপান্তর করা দরকার, যাতে সব শিক্ষার্থী সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ পায়। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবধর্মী, জীবনঘনিষ্ঠ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে উদ্দীপিত করবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, শিক্ষার দায়িত্ব শুধুমাত্র শিক্ষক ও প্রশাসকের নয়, পুরো সমাজের। তিনি আহ্বান জানান, পরিবার, সম্প্রদায় ও নীতি নির্ধারকরা একসাথে কাজ করে শিক্ষার্থীর বহুমাত্রিক বিকাশে সহায়তা করা উচিত।
শেষে, তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: প্রতিদিনের পড়াশোনার পাশাপাশি কমপক্ষে এক ঘণ্টা এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হন, যা আপনার শখ বা নতুন দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে—যেমন ক্রীড়া, সঙ্গীত, নাটক বা স্বেচ্ছাসেবক কাজ। এভাবে বইয়ের চাপ কমিয়ে, নিজের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ মাত্রায় বিকাশ করা সম্ভব হবে।



