২০ জানুয়ারি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (NIC) ১১৯তম সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলায় নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। গাজীপুরে “পূর্বাচল উত্তর”, নারায়ণগঞ্জে “পূর্বাচল দক্ষিণ” এবং কক্সবাজারে “মাতারবাড়ি” নামে তিনটি থানা গঠন করা হবে। একই সঙ্গে নরসিংদি জেলায় রায়পুরা এলাকাকে ভাগ করে অতিরিক্ত একটি থানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে NIC-এর প্রথম সভা হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সভায় অর্থ ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ছয়জন উপদেষ্টা, ক্যাবিনেট সচিব ও প্রধান সচিবসহ মোট চৌদ্দজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্তরের কর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিস্তৃত সমন্বয় নিশ্চিত করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি “রাজস্ব নীতি বিভাগ” এবং দ্বিতীয়টি “রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ” নামে পরিচিত হবে। উভয় বিভাগই রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গতিশীলতা বৃদ্ধি করার দায়িত্বে থাকবে।
স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত কাঠামো পুনর্গঠনের জন্যও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ” এবং “স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ” একত্রিত করে “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়” গঠন করা হবে। এই পুনর্গঠন স্বাস্থ্য নীতি ও সেবা প্রদানকে একক ছাতার নিচে সংহত করার উদ্দেশ্য বহন করে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে “নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়” করার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম “Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA)” অপরিবর্তিত থাকবে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।
প্রস্তাবিত সকল পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। নতুন থানা গঠন, বিভাগীয় পুনর্গঠন এবং মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তন সবই সরকারী নীতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব সংগ্রহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসেবা উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের ফলাফল মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।



