ইয়ুথ ও স্পোর্টস উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সম্ভাব্য চাপের মুখে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসি যদি ভারতীয় বোর্ডের প্রভাবের অধীনে কোনো অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করে, তবে বাংলাদেশ তা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
বাংলাদেশের দলকে টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য ভারত ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হলে তা স্বীকার করা হবে না, এ কথায় নাজরুলের টোন স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দলটি ভারত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে চায় এবং বিকল্প ভেন্যুতে ম্যাচের ব্যবস্থা চেয়েছে।
ফরাসি সংস্থা এএফপি রিপোর্ট করেছে যে, যদি বাংলাদেশ ভারত না যায়, তবে স্কটল্যান্ড দলকে পরিবর্তে পাঠানো হতে পারে। এ বিষয়ে নাজরুল জানান, এধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো দলের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্বে এমন উদাহরণ রয়েছে যখন ভারত পাকিস্তানে খেলা থেকে বিরত থাকে, তখন আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি আইসিসিকে জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দলটি ভারতীয় মাটিতে খেলতে ইচ্ছুক নয় এবং তাই ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে। এই অনুরোধের পর আইসিসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে বুধবারের মধ্যে দলটির অংশগ্রহণ ও ভ্রমণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইসিসি এখনও স্পষ্ট করেনি যে কোনো দল প্রত্যাহার করলে কীভাবে বিকল্প দল নির্বাচন করা হবে। এই অনিশ্চয়তা টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও দলীয় প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্রুতগতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে নিরাপত্তা হুমকির কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আইসিসির অভ্যন্তরীণ হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগকে জোরদার করেছে।
নাজরুলের মতে, দলটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আইসিসির সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়সঙ্গত নীতি অনুসরণ করে সমাধান খুঁজবে। তিনি আরও জানান, দলটি কোনো অযৌক্তিক শর্তে বাধ্য হবে না এবং স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শিডিউল ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসি যদি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ মেনে নেয়, তবে বাংলাদেশ তার ম্যাচগুলো নিরাপদ পরিবেশে খেলতে পারবে। অন্যথায়, টুর্নামেন্টের কাঠামো ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এই বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ, কারণ টি২০ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলটির উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত। নাজরুলের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটি নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত শর্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, রাজনৈতিক চাপের অধীনে নয়।
আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফল টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গতি নির্ধারণ করবে। যদি ভেন্যু পরিবর্তন নিশ্চিত হয়, তবে বাংলাদেশ তার প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজস্ব শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে।
অন্যদিকে, যদি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না হয় এবং দলটি ভারত ভ্রমণ না করে, তবে আইসিসি কীভাবে প্রতিস্থাপন দল নির্বাচন করবে তা এখনও অজানা। এই অনিশ্চয়তা টুর্নামেন্টের সমগ্র কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অযৌক্তিক শর্তে সম্মতি দেবে না, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগের ভিত্তিতে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি রাখে এবং আইসিসি থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।



