বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করে সোজা পথে ভোট দিতে আহ্বান জানালেন। অনুষ্ঠানটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল।
ফখরুল ধর্মভিত্তিক ভোটের ফলাফলকে ‘বেহেস্তে যাওয়ার’ সমতুল্য বলে উল্লেখ করে, ভোটারদের ধর্মের বদলে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে urged করেন। তিনি ধর্মের নামে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা ‘মুনাফিকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, জনগণকে ভুল ধারণা দিয়ে ভোট চাওয়ার নিন্দা করেন।
বিএনপি নেতার মতে, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারা এখনো দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে মা‑বোনকে তুলে দেওয়া ঘটনাকে স্মরণ করে, সেই কষ্টকে কখনো ভুলে না যাওয়ার কথা জোর দেন।
বহু ত্যাগের পর দেশটি আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তিনি বলেন, এবং শীঘ্রই আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে অধিকার ফিরে পেতে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে সুযোগ দেওয়া হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ভোটের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেন।
সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপি দুই বছর আগে ৩১‑ধাপের সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরকার বর্তমানে প্রচার করছে। তিনি বলেন, সংস্কারই বিএনপির মূল অবদান এবং তা দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য।
বিএনপি সংস্কারের পক্ষে থাকলেও, তিনি স্বীকার করেন যে কিছু ক্ষেত্রে দলভুক্ত সদস্যরা ‘কারসাজি’ ও ‘বেইমানি’ করে সংস্কারকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। তবুও তিনি দলকে সংস্কারকে গ্রহণ করতে এবং এগিয়ে নিতে প্রস্তুত বলে জানান।
নির্বাচনের পূর্বে তিনি ‘অর্কেস্ট্রা’ চালু হয়েছে, যা বিএনপির ল্যান্ডস্লাইড জয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিত প্রচারণা হিসেবে বর্ণনা করেন। কিছু গোষ্ঠী নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, তিনি তাদের অভ্যন্তরীণভাবে কোনো সিট না থাকার কথা উল্লেখ করেন।
ফখরুলের মতে, এই ভোট দেশের রাজনৈতিক দিক নির্ধারণ করবে; লিবারেল ডেমোক্রেটিক রাজনীতি বজায় থাকবে নাকি উগ্রপন্থী প্রবণতা দখল করবে। তিনি ভোটের ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার থেকে এখনো এই মন্তব্যের কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে তারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি ও সরকার উভয়েরই লক্ষ্য একই—একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন। তবে কৌশল ও রূপকথা ভিন্ন, যা আসন্ন ভোটে স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি‑নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারী উপস্থিতি ও বিশ্লেষকরা আলোচনা চালিয়ে গেছেন, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ও সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কাকরাইলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ধর্মভিত্তিক ভোটের বিরোধিতা, সংস্কার প্রস্তাব ও নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, বিএনপি তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জনমত গঠনে সচেষ্ট হয়েছে।



