দক্ষিণ কোরিয়ার নারী জাতীয় ফুটবল দল মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির সময় তাদের ফেডারেশন কর্তৃক আরোপিত শর্তগুলোকে “বৈষম্যমূলক” বলে চিহ্নিত করে ম্যাচ থেকে বিরত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি কোরিয়া প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন (কেপিএফএ) এবং দলের খেলোয়াড়দের যৌথভাবে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএফএ)‑কে সেপ্টেম্বর ২০২২‑এ পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাসে ও ইকোনমি ক্লাসের বিমান দিয়ে ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে দূরে অবস্থিত অপ্রতুল হোটেল এবং নিজে থেকেই পরিবহন ও প্রশিক্ষণ সামগ্রীর খরচ বহন করা তাদের জন্য অস্বাভাবিক বোঝা সৃষ্টি করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, খেলোয়াড়দেরকে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত পরিবহন, প্রশিক্ষণ কিট এবং অন্যান্য মৌলিক সামগ্রীর জন্য নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই ধরনের আর্থিক চাপের ফলে দলীয় মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা কেএফএ‑কে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না দিলে পুরো টুর্নামেন্টের প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ থেকে বিরত থাকবে বলে সতর্ক করেছে।
কেএফএ‑এর একজন কর্মকর্তার মতে, তারা এই অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি আলোচনা করছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান প্রকাশ করা হয়নি। এশিয়ান কাপটি ১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া, ইরান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে গ্রুপে থাকবে।
খেলোয়াড়দের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বহু বছর ধরে নারী জাতীয় দলকে অপ্রতুল শর্তে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তারা শুধুমাত্র দেশের গর্বের নামে এই কষ্ট সহ্য করেছে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, পুরুষ জাতীয় দলের তুলনায় তাদের শর্তে স্পষ্ট এবং অস্বীকারযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
এই পরিস্থিতি যদি সমাধান না হয়, তবে দলীয় প্রশিক্ষণ বন্ধ এবং ম্যাচ থেকে বিরত থাকা কেবল তাদের নিজস্ব প্রস্তুতিকে নয়, পুরো দেশের ফুটবল ইমেজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এশিয়ান কাপের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় কোনো বিলম্বের সম্ভাবনা কম, তবে খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ যদি বাড়ে তবে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো স্পষ্ট করে না কীভাবে তারা শর্তগুলো উন্নত করবে, তবে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলমান বলে জানানো হয়েছে। খেলোয়াড়দের দাবি অনুযায়ী, বাসে দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ, অর্থনৈতিক শ্রেণীর বিমান এবং প্রশিক্ষণ মাঠের কাছাকাছি নয় এমন হোটেলগুলোকে তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
কেপিএফএ উল্লেখ করেছে যে, যদি কেএফএ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান না দেয়, তবে তারা সমস্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং আসন্ন এশিয়ান কাপের ম্যাচে অংশগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেবে। এই হুমকি দলীয় ব্যবস্থাপনা ও ফেডারেশনের মধ্যে তীব্র আলোচনার সূচনা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নারী ফুটবলের এই প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তবে মূল বিষয়টি এখনও দেশীয় পর্যায়ে সমাধান হওয়ার অপেক্ষায়। খেলোয়াড়দের দাবি হল, সমান শর্তে প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণ, হোটেল ও খাবার, এবং যাতায়াতের খরচের জন্য ফেডারেশনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
ফেডারেশন কর্তৃক এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর না পাওয়ায়, খেলোয়াড়দের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে এবং তারা নিজেদের গর্বের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, জাতীয় প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা বজায় রাখতে শর্তগুলো সমান হওয়া আবশ্যক।
এই বিরোধের সমাধান না হলে, দক্ষিণ কোরিয়ার নারী দল এশিয়ান কাপের প্রথম রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া, ইরান ও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে খেলা থেকে বাদ পড়তে পারে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ফুটবল র্যাঙ্কিং ও ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে।
কেএফএ‑এর প্রতিনিধিরা বলছেন যে, তারা সকল পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে সমাধান বের করার চেষ্টা করবে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপদ ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতি দেশীয় ফুটবল ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে; কেউ দলকে সমর্থন করে শর্তের উন্নতি দাবি করছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরছেন। শেষ পর্যন্ত, সমাধান না হলে এশিয়ান কাপের সময়সূচি ও ফলাফল উভয়ই অনিশ্চিত রয়ে যাবে।



