আফ্রিকা কাপ ফাইনাল ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ শেষ মুহূর্তে প্যানেনকা শৈলীর পেনাল্টি নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে শটটি সোজা গার্ডি এডোয়ার্ড মেন্ডির হাতে পড়ে। এই ব্যর্থতা সেনেগালের অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে জয়লাভ করে।
দিয়াজের পেনাল্টি নেওয়ার আগে তাকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। তিনি মৌলিক পদ্ধতি থেকে শুরু করে প্যানেনকা শৈলীর ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন, যা শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি নির্ধারণের সুযোগ দেয়।
প্যানেনকা শৈলী, যা প্রথমবার ১৯৭৬ সালে অ্যান্টোনিন প্যানেনকা ব্যবহার করেন, সফল হলে গোলরক্ষককে অবাক করে এবং শুটারকে বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে ব্যর্থ হলে শুটারের আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত হানে এবং দলকে বিপদে ফেলে। দিয়াজের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়।
দিয়াজের শুটটি মেন্ডির হাতে নরমভাবে পড়ে, ফলে সেরাভের গোলরক্ষক কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পেনাল্টি রক্ষা করেন। সেনেগাল এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্কোর বাড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয়।
ম্যাচের পর দিয়াজকে গোল্ডেন বুট পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা তিনি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনোর হাতে গ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় তার মুখে সন্তোষের চেয়ে বেশি হতাশা প্রকাশ পায়, যেন শিশুরা চিপসের বদলে মটরশুঁটি পেতে চায়।
দিয়াজের টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ না করা যায় না; তিনি ছয়টি ম্যাচে পাঁচটি গোল করে মরক্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার এই গতি মরক্কোকে হোম টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নশিপের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
মালি দলের বিরুদ্ধে দিয়াজের পূর্বের পেনাল্টি সফল ছিল; তিনি গোলরক্ষকের দিকে ভুল দিক নির্দেশ করে শটটি গড়িয়ে দেন। তবে প্যানেনকা শৈলীর পেনাল্টি পুনরায় চেষ্টা করা তার জন্য অনুকূল না হতে পারে, কারণ গোলরক্ষক একই ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
প্যানেনকার মূল উদাহরণ অ্যান্টোনিন প্যানেনকা, যিনি ১৯৭৬ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার হয়ে জার্মানির সেপ মায়ারকে ধোঁকা দিয়ে শটটি সফল করেন। সেই সময়ে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত শৈলী ব্যবহার করায় সেপ মায়ার তা ধরতে পারেননি।
দিয়াজের প্যানেনকা শটের ব্যর্থতা তার আত্মবিশ্বাসের উপর বড় প্রভাব ফেলে এবং মরক্কোর টুর্নামেন্টে শেষ মুহূর্তের সুযোগকে নষ্ট করে। প্যানেনকা শৈলী সফল হতে হলে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত হওয়া দরকার, যা দিয়াজের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের পর সেনেগালের জয় টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করে, আর মরক্কোকে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত করে। দিয়াজের গোল্ডেন বুট পুরস্কার সত্ত্বেও, তার পেনাল্টি ব্যর্থতা টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ফলাফলকে বদলে দেয়।
এই ঘটনাটি প্যানেনকা শৈলীর ঝুঁকি ও পুরস্কারকে আবারও তুলে ধরে, যেখানে সফলতা বর্ণিল হয়ে ওঠে, আর ব্যর্থতা তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে। দিয়াজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জন্য সতর্কতা স্বরূপ কাজ করবে।
আফ্রিকা কাপের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



