মঙ্গলবার ঢাকা সচিবালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলাপ‑সেশনে যুব ও ক্রীড়া ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসি‑এর সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জানিয়ে বলেন, যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের ফলে বাংলাদেশকে অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করে, তবে তা স্বীকার করা হবে না।
আসিফ নজরুল বাংলাদেশের ক্রীড়া নীতি ও আইনি পরামর্শের দায়িত্বে আছেন এবং তিনি এই বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা যদি এক দেশের স্বার্থের জন্য অন্য দেশের দলকে অস্বাভাবিক শর্তে বাধ্য করে, তা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি লঙ্ঘন হবে।
বক্তব্যে তিনি আইসিসি‑কে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসি) চাপে মাথা নত না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আইসিসি আমাদের ওপর অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তবে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে না এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে।
একই সময়ে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে কিছু গুজব উঠে আসে। এ বিষয়ে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ বাদ দিয়ে অংশগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তারা পায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
তিনি অতিরিক্তভাবে বলেন, আইসিসি‑এর কোনো সিদ্ধান্ত যদি ভারতীয় চাপের ভিত্তিতে হয়, তবে তা স্বীকারযোগ্য নয়। এই রকম শর্তের মুখে বাংলাদেশ কোনোভাবে আপস করবে না, তিনি পুনরায় জোর দেন।
পূর্বের একটি উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করে, তখন আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করে। সেই সময়ে বাংলাদেশও যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
এই ঘটনাটি থেকে তিনি শিক্ষা নিয়ে বলেন, অযৌক্তিক চাপের মুখে দলকে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থানে বাধ্য করা ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর উচিত সকল সদস্য দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনা করা।
আসিফ নজরুলের মতে, ভবিষ্যতে যদি আইসিসি আবার একই ধরনের চাপে পড়ে, তবে বাংলাদেশ যথাযথ আইনি ও ক্রীড়া প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপত্তি জানাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শর্ত যদি যুক্তিসঙ্গত না হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশ তার অংশগ্রহণের শর্ত নিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এই আলোচনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হবে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে।



