ঢাকা-১৭ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মনোনীত পার্টি প্রার্থী ও বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি ১৯ জানুয়ারি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেনের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয় এবং তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয় হল, তার প্রচারপত্রে “এমএসসি ইন ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি অ্যান্ড প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক্স (ভারত)” ডিগ্রি উল্লেখ করা, যা বিএমডিসি রেজিস্টারে নিবন্ধিত নয়।
বিএমডিসি জানিয়েছে, স্বীকৃত নয় এমন ডিগ্রি ব্যবহার রোগীর সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের লঙ্ঘন, ফলে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। অভিযোগকারী আবদুল কাদের নামের একজন ব্যক্তি প্রচারপত্রের কপি সহ এই বিষয়টি কাউন্সিলে জানিয়ে দেন। রেজিস্ট্রার লিয়াকত হোসেন উল্লেখ করেন, প্রাথমিক যাচাইয়ের পর দেখা গেছে ডা. খালিদুজ্জামানের এমবিবিএসের পর কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বিএমডিসিতে রেকর্ড নেই, তাই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।
ডা. খালিদুজ্জামান নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, একজন এমবিবিএস পাস ডাক্তার যদি আত্মবিশ্বাসী হন, তবে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি ও প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক্সের বিষয়টি বাংলাদেশে নেই, কেবলমাত্র কয়েকটি বিদেশি দেশে সীমিতভাবে শিক্ষণ হয়।
ডা. খালিদুজ্জামান তার হাসপাতালের কাজের পরিসর তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন প্রক্রিয়া তার হাসপাতালেই সম্পন্ন হয় এবং তিনি নিজে এই কাজের দায়িত্বে আছেন। তিনি নিজের সাফল্যের হার নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে অন্যদের চ্যালেঞ্জ করেন, কারণ তিনি দাবি করেন অন্য প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের হার তার তুলনায় কম। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেন, যা তিনি নিজের বিরুদ্ধে গৃহীত হয়েছে বলে মনে করেন।
বিএমডিসি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শোকজের পরে ডা. খালিদুজ্জামানের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। রেজিস্টারার লিয়াকত হোসেন মিডিয়াকে জানান, শোকজ নোটিশের উদ্দেশ্য হল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা সংগ্রহ করা, যাতে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি ও প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো স্বীকৃত স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম নেই, ফলে বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার করা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদনহীন হিসেবে বিবেচিত হয়। মেডিকেল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা অনুযায়ী, চিকিৎসকের শিরোনাম ও যোগ্যতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি মৌলিক শর্ত।
এই ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারকারী ও রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই করার সময় সরকারী রেজিস্টার, যেমন বিএমডিসি, থেকে নিশ্চিতকরণ নেওয়া উচিত। অননুমোদিত ডিগ্রি ব্যবহার করলে রোগীর চিকিৎসা ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে এবং আইনি দায়বদ্ধতা আরোপিত হতে পারে।
বিএমডিসি উল্লেখ করেছে, অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শাস্তি নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি বিবেচনা করা হবে।
ডা. খালিদুজ্জামানের রাজনৈতিক অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী সময়ের সঙ্গে যুক্ত। তবে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, শোকজ নোটিশের ভিত্তি হল ডিগ্রি স্বীকৃত না হওয়া এবং তা রোগীর সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হওয়া।
বিএমডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উচিত তাদের শিরোনাম ও যোগ্যতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং স্বীকৃত সংস্থার রেজিস্টারে নিবন্ধন নিশ্চিত করা। রোগীদের জন্যও এই বিষয়টি জানার মাধ্যমে তারা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই ধরনের বিষয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পেশাগত সংস্থাগুলোকে নিয়মিতভাবে ডিগ্রি স্বীকৃতি ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে আপডেট করা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত, রোগীর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।



