ঢাকা মেট্রোরেল ১১ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা পর্যন্ত মাত্র ১৫১ যাত্রীকে পরিবহন করেছে। এই সময়ে দুটো ট্রেন চলাচল করলেও কিছু স্টেশনে যাত্রী সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। উত্তরা‑মধ্য স্টেশনে সর্বোচ্চ আটজন, উত্তরা‑দক্ষিণে মাত্র একজন যাত্রী রেকর্ড হয়েছে। ফার্মগেটের পরের স্টেশনগুলোতে তুলনামূলকভাবে কিছু যাত্রী চলাচল করলেও মোট সংখ্যা খুবই সীমিত।
বিপরীতে একই দিনের রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সময়ে মেট্রোরেল ৩,৭৪৯ যাত্রীর সেবা দিয়েছে। শেষের আধা ঘণ্টায় প্রায় সব স্টেশনেই কিছু না কিছু যাত্রী উঠানামা করেছে। দিনের মোট যাত্রীসংখ্যা ৪ লক্ষের উপরে পৌঁছেছে, যা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ২৩,৫০০ যাত্রীর সমান। স্টেশন প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত চাহিদা আরও বেশি হতে পারে।
শীতের তীব্রতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীতকালীন বন্ধ এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে শহরের বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন। এই কারণগুলোই সকালবেলায় যাত্রীসংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে গড়ে পাঁচ লাখ যাত্রীর তুলনায় এখন সামান্য কম দেখাচ্ছে।
কর্মজীবী গোষ্ঠী রাতের সময় মেট্রোরেলের সেবা বাড়ানোর পক্ষে দৃঢ় মত পোষণ করছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একজন দোকান কর্মী জানান, তিনি পল্লবী থেকে মেট্রোরেলে করে কাজের জন্য যাতায়াত করেন, তবে শেষ ট্রেন প্রায়ই মিস হয়ে যায়। বর্তমানে শেষ ট্রেনের সময় ১০টা ২০ মিনিটে শেষ হয়; কখনো সময়মতো পৌঁছালে তিনি রাত ১১টার আগে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন, অন্যথায় দেরি হয়ে ১১:৩০ বা তার পরেও পৌঁছাতে হয়। রাতের সেবা বাড়লে একই রকম বহু কর্মীর সুবিধা হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মেট্রোরেল বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু রয়েছে, এবং মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ডিএমটিসিএল ২০২৪ সালের শেষের দিকে কমলাপুর পর্যন্ত সেবা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ২০১২ সালে অনুমোদনের সময় মেট্রোরেলকে ঢাকা শহরের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যাত্রীসংখ্যার পরিবর্তন সরাসরি আয় এবং অপারেশনাল খরচে প্রভাব ফেলে। সকালবেলায় কম যাত্রী মানে কম টিকিট বিক্রয়, তবে রাতের ভিড়ের সময়ে আয় বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত শীতের কারণে স্টেশন প্রবেশে বাধা এবং শেষ ট্রেনের সময়সূচি সীমাবদ্ধতা গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে।
বর্ধিত রাতের সেবা চালু করলে মেট্রোরেল অতিরিক্ত ভিড়ের সময়ে আয় বাড়াতে পারবে এবং কর্মজীবী গোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে, সম্প্রসারণ প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়া এবং কমলাপুর পর্যন্ত রুট চালু হলে রাইডারশিপে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। তবে শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং নির্বাচনের প্রভাবের মতো মৌসুমী পরিবর্তনগুলোকে বিবেচনা করে নমনীয় সময়সূচি তৈরি করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, মেট্রোরেল সকালবেলায় কম যাত্রী এবং রাতের ভিড়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। শীতের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত। কর্মজীবী গোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ী রাতের সেবা বাড়ানো আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি উন্নত করতে পারে। সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি এবং কমলাপুর পর্যন্ত রুটের উদ্বোধন মেট্রোরেলের ভবিষ্যৎ বাজার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



