যুক্তরাজ্যের সরকার অর্ধ-১৬ বছর বয়সের নিচের শিশুদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত কিনা তা নির্ধারণের জন্য একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকার জানিয়েছে, তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে স্কুল পরিদর্শনের সময় অফস্টেডকে ফোন ব্যবহারের নীতি যাচাই করার অধিকার প্রদান করা হবে এবং ফলস্বরূপ স্কুলগুলোকে ডিফল্টভাবে ফোন-মুক্ত রাখতে বলা হবে।
এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়ায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ কার্যকর হয়, যা বিশ্বে প্রথম উদাহরণ। অন্যান্য দেশও অনুরূপ আইন প্রণয়নের কথা বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির ৬০টিরও বেশি সংসদ সদস্য সরকারকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে, কিশোরী ব্রিয়ানা গেইয়ের মা এসথার গেইও সরকারকে দ্রুত কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এসথার গেই তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, কিছু লোকের মতে দুর্বল শিশুরা সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে তাদের সমবায় গোষ্ঠী খুঁজে পেতে পারে, তবে তিনি এক অত্যন্ত দুর্বল ও ট্রান্সজেন্ডার শিশুর মা হিসেবে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অসম্মত। তিনি বলেন, ব্রিয়ানা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া সীমিত করে ফেলেছিল; যদিও তার বাস্তব বন্ধু ছিল, তবু তিনি অনলাইন জগতে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।
বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরামর্শের মাধ্যমে অভিভাবক, যুবক ও নাগরিক সমাজের মতামত সংগ্রহ করে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে। এছাড়া, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কঠোর বয়স যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে, যাতে তারা ব্যবহারকারীদের আসক্তিকর বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফিচারগুলো সীমিত বা সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
অফস্টেডের নতুন নির্দেশিকায় স্কুলগুলোকে ফোন ব্যবহার কমাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে, যার মধ্যে শিক্ষক ও কর্মচারীদের শিক্ষার্থীর সামনে ব্যক্তিগত কাজে মোবাইল ব্যবহার না করার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরামর্শের ফলাফল গ্রীষ্মকালে প্রকাশ করা হবে। প্রযুক্তি সচিব লিজ কেন্ডল উল্লেখ করেন, অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের বিধানগুলো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয় এবং অভিভাবকদের উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি শিশুর জীবনে সমৃদ্ধি আনবে, ক্ষতি নয়, এবং প্রতিটি শিশুকে তার প্রাপ্য শৈশবের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকোও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, তার দল এই ধরনের নীতি সমর্থন করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত।
এই পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরকার গ্রীষ্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ও ডিজিটাল নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
ব্রিটিশ সরকার সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে শিশুদের রক্ষা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন ও প্রভাব নিয়ে এখনও বিস্তৃত আলোচনা বাকি।



