বিপিএল এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্স টস জিতেছে এবং বোলিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টস জয়ী সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং বেছে নেন, ফলে রাইডার্সকে প্রথমে ব্যাট করতে হবে। ম্যাচটি মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল, দুপুর একটায় মিরপুরের শের‑এ‑বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
লিগের শেষ পর্যায়ে রংপুর তৃতীয় এবং সিলেট চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে, ফলে টেবিলের তৃতীয় ও চতুর্থ দলই এই একক ম্যাচে মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচের পরাজিত দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়বে, আর বিজয়ী দল বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কোয়ালিফায়ার ১-এ জয়ী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
সিলেট টাইটান্স একাদশে চারজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে দল গঠন করেছে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে পূর্বে খেলা একাদশের কিছু খেলোয়াড় বাদ দিয়ে, ক্রিস ওকস, আরিফুল ইসলাম, স্যাম বিলিংস এবং খালেদ আহমেদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মুমিনুল হক, রুয়েল মিয়া, ইথান ব্রুকস এবং শহিদুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত।
রংপুর রাইডার্সও একাদশে পরিবর্তন আনে। শেষ ম্যাচে বিশ্রামে থাকা মুস্তাফিজুর রহমান এবং কাইল মেয়ার্সকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে, পূর্বে বাদ থাকা কোনো খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি, ফলে পরিবর্তনটি মূলত বিশ্রাম নেওয়া দুইজনের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি।
রংপুর রাইডার্সের শেষ একাদশে তাওহিদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস (অধিনায়ক), কাইল মেয়ার্স, খুশদিল শাহ, নুরুল হাসান সোহান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ফাহিম আশরাফ, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম এবং মুস্তাফিজুর রহমান অন্তর্ভুক্ত।
সিলেট টাইটান্সের একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তৌফিক খান তুষার, স্যাম বিলিংস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আরিফুল ইসলাম, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ এবং খালেদ আহমেদ রয়েছেন।
টস জয়ের পর সিলেটের বোলিং পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে যায়; তারা রাইডার্সের ব্যাটিং লাইন‑আপকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়। রাইডার্সের ব্যাটিং অর্ডার তাওহিদ হৃদয় এবং ডেভিড মালানের সঙ্গে শুরু হবে, এরপর লিটন দাসের নেতৃত্বে মাঝারি ক্রমে শট গড়ে তোলা হবে।
সিলেটের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে পারভেজ হোসেন ইমন এবং তৌফিক খান তুষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। স্যাম বিলিংস এবং খালেদ আহমেদও মাঝারি গতি ও স্পিনের সমন্বয়ে রাইডার্সের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে।
দুই দলই এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ফিল্ডিং ও কৌশলগত পরিবর্তন ব্যবহার করবে। রাইডার্সের ফিল্ডিং ইউনিটের মধ্যে তাওহিদ হৃদয় এবং ডেভিড মালান দ্রুত রানের দমন এবং ক্যাচে দক্ষতা প্রদর্শন করবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছে।
সিলেটের ক্ষেত্রে, ক্রিস ওকস এবং আরিফুল ইসলাম ব্যাটিংয়ে মাঝারি গতি এবং সুনির্দিষ্ট শটের মাধ্যমে রাইডার্সের বোলারদের চ্যালেঞ্জ করবে। তাদের উপস্থিতি সিলেটের ব্যাটিং শক্তি বাড়াবে এবং টার্গেট স্কোরে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে উভয় দলে কীভাবে শর্তাবলী ব্যবহার করা হবে এবং কীভাবে পরিবর্তিত একাদশের খেলোয়াড়রা পারফর্ম করবে তার ওপর। রাইডার্সের ব্যাটিং লাইন‑আপের অভিজ্ঞতা এবং সিলেটের বোলিং পরিকল্পনা এই ম্যাচের মূল দিক নির্ধারণ করবে।
যদি রাইডার্স জয়ী হয়, তারা কোয়ালিফায়ার ১-এ জয়ী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ দেবে। অন্যদিকে, সিলেটের জয় তাদেরকে কোয়ালিফায়ার ২-এ পরবর্তী ম্যাচে নিয়ে যাবে, যেখানে তারা আবার কোয়ালিফায়ার ১-এ জয়ী দলের সঙ্গে লড়াই করবে।
বিপিএল এলিমিনেটর ম্যাচের শেষ ফলাফল টুর্নামেন্টের গতি নির্ধারণ করবে এবং উভয় দলের জন্য পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। উভয় দলে পরিবর্তিত একাদশের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তই ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলকে নির্ধারণ করবে।



