27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের 'নতুন বাংলাদেশ' ভিশন উপস্থাপন

জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের ‘নতুন বাংলাদেশ’ ভিশন উপস্থাপন

ঢাকার একটি হোটেলে আজ সকালে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, একাডেমিক, শিল্পপতি, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে “নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

শফিকুরের বক্তব্যের মূল থিম ছিল গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ, জবাবদিহি সম্পন্ন শাসন এবং মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে অর্থনীতির গঠন। তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করে বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ “ঐতিহাসিক মোড়ে” পৌঁছেছে।

অধিকারের অন্ধকার যুগের পর এখন দেশটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর্যায়ে রয়েছে, এ কথায় তিনি জোর দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে স্বাধীনতার মূল প্রতিশ্রুতি—রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক ন্যায় এবং মানব মর্যাদা—পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি, এ কথায় তিনি দৃষ্টিপাত করেন।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি হ্রাস পেয়েছে এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত কণ্ঠস্বর প্রায়শই দমন হয়েছে, এ বিষয়গুলো তিনি উল্লেখ করে অতীতের শাসনব্যবস্থার দোষারোপ করেন।

গত সতেরো বছর ধরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা গণতান্ত্রিক স্থানকে সংকুচিত করেছে, এ কারণেই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে চ্যালেঞ্জিং বলে বর্ণনা করেন।

জুলাই ২০২৪ সালের বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা আবারও তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য উত্থান করেছে। এই আন্দোলনকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন।

অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন “বেঁচে থাকা নয়, স্থিতিশীলতা” অর্জন করা। শুধুমাত্র আর্থিক বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং মানুষের জীবনের পরিকল্পনা, পরিবারের জন্য মর্যাদাপূর্ণ উপার্জন এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সক্ষমতা মাপা দরকার।

বৃদ্ধি একা যথেষ্ট নয়, অর্থনৈতিক সাফল্যকে মানুষের আত্মবিশ্বাস, গৃহস্থালির মর্যাদা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত, এ কথায় তিনি জোর দেন।

বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং অনিরাপদ অনানুষ্ঠানিক কাজের আধিক্যকে তিনি দেশের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। অনেক তরুণ স্নাতক শিক্ষার পরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারছেন না, এবং নারীরা এখনও কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন।

এদিকে তিনি বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন; যুবশক্তি, বৈদেশিক কর্মী, বৈশ্বিক ডায়াস্পোরা এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে দেশের উন্নয়নের মূল সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শফিকুরের এই ভিশন উপস্থাপনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে জামায়াতের নীতি দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা এই দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

এই বক্তব্যের পরবর্তী পর্যায়ে জামায়াতের নেতৃত্ব নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং জনমত গঠনকে কেন্দ্র করে কাজ চালিয়ে যাবে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments