সাব্রিনা নাওরিন রহমান, সিডনি ভিত্তিক ভল্কসওয়্যাগেনের মার্কেটিং পেশাজীবী, এবং অন্যান্য বহিরাগত বাংলাদেশি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন সরকার থেকে কী আশা করছেন, তা জানাতে এক সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেছেন।
জুলাই ২০২৪-এ দেশের সর্বব্যাপী প্রতিবাদে জনগণ একত্রিত হওয়ার পর, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। ঐ আন্দোলনের এক বছর বেশি পরেই সরকার নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বহিরাগত বাংলাদেশি সম্প্রদায়, যারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে, ঐ প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। এই সংহতির আলোকে, আমাদের বার্ষিকী সংখ্যায় তাদের প্রত্যাশা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
সাব্রিনা রহমান যখন ঢাকায় ফিরে আসেন, প্রথমে তিনি মাতৃভূমির সুরে মুগ্ধ হন এবং বাংলা ভাষার সান্নিধ্যে আত্মীয়তার অনুভূতি পান। তবে বিমানবন্দরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তার উচ্ছ্বাস দ্রুতই কমে যায়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি মশার গুঞ্জন, অপরিষ্কৃত শৌচাগার, ময়লা ব্যাগ টrolley, এবং অযত্নে হ্যান্ডল করা লাগেজের মুখোমুখি হন। কনভেয়ার বেল্টের ধীর গতি, শীতল বাতাসের অভাব, এবং ক্রমাগত বিশৃঙ্খল দৃশ্য তাকে প্রথম ধারণা দেয় যে, বিমানবন্দরটি দেশের সুনামকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করছে না।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিমানবন্দর কেবল পরিবহন কেন্দ্র নয়, বরং দেশের স্ব-চিত্রের প্রতিফলন। তাই পরিষ্কার, কার্যকর এবং স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর উপর ইতিবাচক ছাপ ফেলবে।
রহমানের মতে, আতিথেয়তা এখন নতুন মানদণ্ড হওয়া উচিত। পরিষ্কার পরিবেশ, দক্ষ কর্মী, সহায়ক ইমিগ্রেশন অফিসার, নির্ভরযোগ্য লাগেজ হ্যান্ডলিং, স্পষ্ট সাইনেজ, আধুনিক টrolley এবং স্থানীয় শিল্প ও সঙ্গীতের সংযোজনের মাধ্যমে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা গর্বের বিষয় করা সম্ভব।
বহিরাগত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অধিকাংশের প্রত্যাশা শুধুমাত্র বিমানবন্দরের উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়; তারা নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চান।
বিশেষ করে, যেসব তরুণ নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন, তারা দেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে নতুন সরকারের দায়িত্বকে গুরুত্ব দেন।
এই প্রত্যাশা দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন অপরিহার্য।
বহিরাগত সম্প্রদায়ের মতামত সরকারকে বিমানবন্দরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং ব্যবহারবান্ধব করার দিকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা পর্যটন ও বাণিজ্যিক প্রবাহকে বাড়াবে।
অধিকন্তু, এই ধরনের অবকাঠামোগত সংস্কার দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে গণ্য হলে, তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের আস্থাকে শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, সাব্রিনা রহমানের মতামত এবং অন্যান্য বহিরাগত বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা নতুন সরকারকে দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র উন্নয়নে এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



