আজ, ২০ জানুয়ারি, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের শেষ দিন শেষ হয়েছে, যার মধ্যে তারা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারবে। এই নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) আগামীকাল থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করবে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ইসিসি এই সময়সূচি পূর্বে প্রকাশিত একটি বৃত্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। শেষ মুহূর্তের প্রত্যাহার ও তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
ইসিসি জানিয়েছে যে, প্রতিনিধিত্বের আইন ১৯৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, যেকোনো নিবন্ধিত প্রার্থী নির্ধারিত তারিখের আগে স্বাক্ষরিত লিখিত নোটিশ রিটার্নিং অফিসারকে জমা দিয়ে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারে। নোটিশটি প্রার্থীর নিজস্ব হাতে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি দ্বারা জমা দেওয়া যেতে পারে। নোটিশে প্রার্থীর নাম, নির্বাচনী এলাকা এবং প্রত্যাহারের স্পষ্ট ইচ্ছা উল্লেখ থাকতে হবে। ইসিসি এই নথি গ্রহণের শেষ সময়সীমা আজ পর্যন্ত নির্ধারিত করেছে।
প্রত্যাহার নোটিশ জমা হলে বা পার্টি তার প্রার্থীর নামাবলি চূড়ান্ত করলে, আর কোনো শর্তে তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা যাবে না, ইসিসি এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে। একবার চূড়ান্ত নামাবলি হয়ে গেলে, তা রিটার্নিং অফিসারকে অনুমোদন দিতে হবে এবং তা পুনরায় পরিবর্তন করা যাবে না। এই নীতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, এই নিয়মের লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
রিটার্নিং অফিসার প্রত্যাহার নোটিশের একটি কপি এবং পার্টির চূড়ান্ত নামাবলি অফিসের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করবেন, যাতে সকল ভোটার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ সহজে তা দেখতে পারে। এই প্রকাশনা প্রক্রিয়া ভোটারদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়ায়। নোটিশ ও নামাবলি উভয়ই অফিসের প্রধান দরজার পাশে বা অন্য কোনো সহজলভ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
প্রত্যাহার নোটিশ জমা হওয়ার পরপরই রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী তালিকা প্রকাশ করবেন, যাতে ভোটাররা কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন তা স্পষ্ট হয়। তালিকায় প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার সব চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম, তাদের পার্টি ও নির্বাচনী প্রতীক উল্লেখ থাকবে। এই তালিকা ইসিসি ও রিটার্নিং অফিসার উভয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে এবং স্থানীয় অফিসে প্রিন্টেড কপি বিতরণ করা হবে।
এ পর্যন্ত, দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকা থেকে মোট ২,৫৬৮ জন প্রার্থী নাম নিবন্ধন করেছে, যার শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এই সংখ্যা পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা বেশি, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা নির্দেশ করে। প্রার্থীদের মধ্যে স্বাধীন ও পার্টি-সংযুক্ত উভয় প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত।
ইসিসি ৪ জানুয়ারি জানিয়েছে যে, ১,৮৪২ জনের নামাবলি বৈধ এবং ৭২৩ জনের নামাবলি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবৈধ নামাবলির কারণের মধ্যে ফরম পূরণে ত্রুটি, স্বাক্ষরের অভাব এবং নির্ধারিত সময়সীমার পরে জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। অবৈধ প্রার্থীদের আবেদন পুনরায় বিবেচনা করা হবে না।
৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৪৫টি আপিল দাখিল হয়েছে, যেগুলোর ওপর ইসিসি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি পরিচালনা করেছে। আপিলের মধ্যে বেশিরভাগই নামাবলির বৈধতা, নথিপত্রের সঠিকতা এবং নির্বাচনী বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে ছিল। ইসিসি আপিলের ফলাফল অনুযায়ী কিছু প্রার্থীর নামাবলি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, সময়সীমা ও আপিল প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, প্রার্থীদের জন্য যথাযথ সময় ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত, যাতে কোনো প্রার্থী অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ না পড়ে। তবে, তারা ইসিসির সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা প্রত্যাশা করেছে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে; প্রার্থীর প্রত্যাহার শেষ হওয়ার পর প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রচার শুরু হলে দলগুলো তাদের কৌশল নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে, ছোট ও নতুন পার্টিগুলো তাদের প্রতীক ও প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবে। একই সঙ্গে, প্রধান দলগুলো তাদের প্রচারমূলক বার্তা ও জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে রিটার্নিং অফিসার আগামীকাল চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবেন, যা ভোটারদের জন্য সর্বশেষ তথ্য হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে, এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নাগাদ ভোটাররা ভোট দেবে। ইসিসি সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



