ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কনেসেটে একটি ভাষণে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এমন শক্তি প্রয়োগ করবে বলে সতর্ক করেছেন, যা তেহরান কখনও অনুভব করেনি। তিনি এই মন্তব্যটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার সময় প্রকাশ করেন, যেখানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্রতর হয়েছে।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ইরান সাম্প্রতিক সহিংসতার পর শান্ত অবস্থায় ফিরে আসার চেষ্টা করলেও ইসরায়েল তেহরানের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, যদি ইরান কোনো ভুল করে এবং ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালায়, তবে ইসরায়েল এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে যা তার শত্রুদের আগে কখনও দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কোনো আক্রমণই ইসরায়েলের জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং তা মোকাবিলায় দেশটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করবে। তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে বলেন, তেহরান আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে না, ফলে তার কৌশলগত দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এই সতর্কতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে চায়। নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে তার সামরিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করেছে এবং ইরানের কোনো আক্রমণকে দ্রুত ও নির্ভীকভাবে প্রতিহত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের এই সেশনে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। তারা ইরানের সামরিক কার্যক্রমের পরিবর্তন ও তার আঞ্চলিক প্রভাবের বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
নেতানিয়াহুর মন্তব্যের পর ইরান থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে ইসরায়েলের সতর্কতা ইরানের নিরাপত্তা নীতি ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। ইরানের নেতৃত্বের জন্য এই সতর্কতা একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।
ইসরায়েলের এই দৃঢ় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করতে পারে, কারণ তারা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে ইসরায়েলের ভূমিকা স্বীকার করে। একই সঙ্গে, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
অভ্যন্তরীণভাবে, নেতানিয়াহুর সতর্কতা ইসরায়েলের নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং সরকারকে তার প্রতিরক্ষা বাজেট ও কৌশলগত পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে উৎসাহিত করবে। এই ধরনের ঘোষণা সাধারণত নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক সমর্থন জোরদার করার উদ্দেশ্যও বহন করে।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত করছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বড় ভূমিকা রাখবে। ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি ইরানের জন্য একটি সংকেত হতে পারে যে, কোনো অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ফলে তীব্র সামরিক প্রতিক্রিয়া মুখোমুখি হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল তার গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থার মাধ্যমে তেহরানের কার্যক্রমের উপর নজরদারি চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য যৌথ কৌশল তৈরি করা হবে।
সারসংক্ষেপে, নেতানিয়াহু ইরানের কোনো আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সতর্কতা ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।



