১৯ জানুয়ারি সোমবার, দিল্লির হোয়াইট হাউসের সামনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রীতি অনুসারে স্বাগত জানালেন। দুজন নেতার সাক্ষাৎকারে উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়। এই অনুষ্ঠানটি ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
মোদি প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে গুজরাটের কারিগরদের তৈরি একটি রাজকীয় কাঠের দোলনা উপস্থাপন করেন। দোলনাটি হাতে তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী ফুলের নকশা ও সজ্জা দিয়ে সজ্জিত, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে কাশ্মীরের বিশেষ উপহার হিসেবে একটি নকশাবদ্ধ রূপার বাক্সে রাখা উঁচু মানের পশমের শাল উপস্থাপন করা হয়। এই শালটি কাশ্মীরের উৎকৃষ্ট পশম দিয়ে বোনা, যা হালকা ও উষ্ণতার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
প্রেসিডেন্টকে আরেকটি কাশ্মীরীয় উপহার হিসেবে জাফরান প্রদান করা হয়, যা একই রকম নকশাবদ্ধ রূপার বাক্সে রাখা থাকে। কাশ্মীরের উপত্যকায় উৎপাদিত এই জাফরান তার গাঢ় লাল রঙ এবং তীব্র সুগন্ধের জন্য বিখ্যাত, এবং এটি ভারতীয় রন্ধনশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও, প্রেসিডেন্টকে “মাদার অব দ্য নেশন” শিরোনামের সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা দু’দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এ ছাড়াও, দু’দেশের অন্যান্য মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা দু’দেশের উচ্চস্তরের কূটনৈতিক সংযোগকে নির্দেশ করে।
এই ভিজিটের সময় উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিশেষ করে, জ্বালানি, অবকাঠামো, পর্যটন এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়। দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে একাধিক যৌথ প্রকল্পের পরিকল্পনা চালু করেছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই উচ্চস্তরের সাক্ষাৎকারের ফলে ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং এই ধরনের শীর্ষ স্তরের মিটিংগুলো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি দু’দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, কূটনৈতিক বন্ধন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থাপিত উপহারগুলো ভারতীয় শিল্পকলা ও হস্তশিল্পের সমৃদ্ধি তুলে ধরে, এবং দু’দেশের নেতাদের পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী ধাপে উভয় সরকারই বিভিন্ন সেক্টরে যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করবে।



