22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকিম জং উন উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়াং সুং হোকে সরাসরি বরখাস্ত করলেন

কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়াং সুং হোকে সরাসরি বরখাস্ত করলেন

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়াং সুং হোকে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অযোগ্যতা ও দায়িত্বহীনতার উপর তীব্র সমালোচনা করেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, কিমের মন্তব্যের পরই ইয়াংকে ঘটনাস্থলেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিমকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, রূঢ় এবং অযোগ্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বর্ণিত অনুষ্ঠানটি উত্তর কোরিয়ার একটি বড় শিল্প যন্ত্রপাতি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে সরকারী কর্মকর্তারা নতুন উৎপাদন সুবিধার উদ্বোধন উদযাপন করছিলেন। কিম উপস্থিত ছিলেন এবং সরাসরি কর্মীদের সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন।

কিমের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের মুখে রয়েছে এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব তা আরও কঠিন করে তুলছে। তিনি বিশেষ করে এমন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার অভ্যাসে অভ্যস্ত।

ইয়াং সুং হোকে কিম ‘গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য অনুপযুক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন কর্মকর্তাদের অবস্থান দেশকে পিছিয়ে রাখে। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াংকে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়।

কিমের এই পদক্ষেপটি ঘটনাস্থলেই সম্পন্ন হওয়ায় এটি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরখাস্তের খবর সরকারী মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, সরাসরি কর্মস্থলে তা কার্যকর করা বিরল।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করেন, এই ধরনের প্রকাশ্য বরখাস্তের পেছনে অর্থনৈতিক নীতির দিক থেকে ত্বরান্বিত সংস্কার ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকতে পারে। তবে সরকারী সূত্র থেকে কোনো অতিরিক্ত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়নি।

কিমের বক্তব্যে তিনি একটি আধুনিক ও উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা দেশের ভবিষ্যৎকে দৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক নীতির অব্যবস্থাপনা এবং অলস কর্মকর্তাদের তিরস্কার করা প্রয়োজন।

এই ঘটনার পর, কিমের নেতৃত্বে সরকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিরোধী মতামত প্রকাশ করা হয়নি।

কিমের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরে শাসন কাঠামোর পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক নীতি সংশোধনের সম্ভাবনা বাড়ছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, কিমের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী সংস্থা দ্রুত নতুন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে নিয়োগের প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে নতুন নিয়োগের নাম ও পদবী এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সারসংক্ষেপে, কিম জং উনের এই সরাসরি এবং তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা সূচিত করতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও নেতৃত্বের গঠনে প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments