20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহাসানাত আবদুল্লাহ তরিক রহমানের অর্থ ও মিডিয়া কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন

হাসানাত আবদুল্লাহ তরিক রহমানের অর্থ ও মিডিয়া কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন

বিএনপি নেতা হাসানাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি ঢাকা-১৭ নির্বাচনী মিডিয়া কমিটিতে তরিক রহমানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও কমিটির গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরিকের বিশাল গাড়ি বহর ও তেল ব্যবসা থেকে আসা তহবিলের উৎসের ওপর এখন কোনো প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না, যদিও ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় একপাশের সমালোচনা দেখা গিয়েছিল। এই পার্থক্যকে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন।

হাসানাতের মতে, তরিকের নির্বাচনী মিডিয়া কমিটিতে ৪৯ জন পেশাদার সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখন সাংবাদিকরা কোনো নির্দিষ্ট দলের প্যাডে নাম লেখায়, তখন তাদের নিরপেক্ষতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই ৪৯ জনের মধ্যে কে বিএনপির কর্মী, কে স্বাধীন পর্যবেক্ষক, এবং তারা নির্বাচন কমিশনের কার্ড নেবে নাকি দলের কার্ড নিয়ে কাজ করবে—এগুলো স্পষ্ট করা জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি মিডিয়া কমিটির গঠনকে সাংবাদিকতার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তরিকের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে ইচ্ছুক এই সাংবাদিকরা কি সত্যিকারের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে পারবে, নাকি দলীয় স্বার্থে কাজ করবে, তা ভবিষ্যতে পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা না থাকলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হাসানাত অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, পূর্বে তরিককে ‘ভারতের চর’ ও ‘পলাতক ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করা কিছু সংবাদমাধ্যম এখন তার ঘনিষ্ঠতার দিকে ঝুঁকছে। এই মিডিয়া আউটলেটগুলো দীর্ঘদিন তরিকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রচার চালিয়ে আসলেও, এখন তারা তার সঙ্গে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। তিনি এ পরিবর্তনকে রাজনৈতিক স্বার্থের পুনর্গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কর্মীদের বিরুদ্ধে চরিত্র হরণে যারা সক্রিয় ছিল, তারা এখন নতুন করে সাংবাদিকতার কার্ড তৈরি করার উদ্যোগে লিপ্ত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি সাংবাদিকতার স্বতন্ত্রতা ও নৈতিকতার ওপর আঘাতকারী একটি প্রবণতা হিসেবে দেখেন। তরিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা সম্ভবত নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায়, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

হাসানাতের শেষ বক্তব্যে তিনি সাংবাদিক সমাজকে আহ্বান জানান, তরিকের অর্থের উৎস ও ব্যয় সম্পর্কে ততটাই প্রশ্ন তোলা হোক, যতটা প্রশ্ন তার ওপর আরোপ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে যদি কোনো পক্ষপাত থাকে, তবে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। এই আহ্বানকে তিনি গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। যদি তরিকের মিডিয়া কমিটি সত্যিই দলীয় স্বার্থে কাজ করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা বাড়বে। অন্যদিকে, যদি সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে এটি বিএনপির স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর সুযোগ হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই নির্বাচনী পরিবেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশনকে এই মিডিয়া কমিটির গঠন ও সদস্যদের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে হতে পারে। পাশাপাশি, তরিকের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়তে পারে। এসব পদক্ষেপের ফলস্বরূপ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে, এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা পুনরায় সংজ্ঞায়িত হতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments