বহুল আলোচনার পর, তরুণ অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান নিকিল নাগেশ ভাটের সঙ্গে একটি মিথোলজিক্যাল অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার প্রকল্পে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। এই চলচ্চিত্রটি ভারতীয় পুরাণের ভিত্তিতে নির্মিত হবে এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও নতুনত্বের কারণে উভয় শিল্পীই এতে উচ্ছ্বসিত।
প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে; উভয় পক্ষই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি, একটি বড় স্টুডিওর সঙ্গে উৎপাদন ও আর্থিক সহায়তার জন্যও আলোচনা এগিয়ে রয়েছে, যা প্রকল্পের স্কেল ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্দেশক নিকিল নাগেশ ভাট, তার পূর্ববর্তী চলচ্চিত্র “Kill” (২০২৪) দিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছেন এবং এখন মিথোলজিক্যাল থিমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চান। তার গল্প বলার ধরন এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে কার্তিকের আধুনিক চিত্রশৈলীর সঙ্গে মিলিয়ে একটি বৈশিষ্ট্যময় সিনেমা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দিকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি শুধুমাত্র নগর শ্রোতাদের নয়, গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দর্শকদেরও আকৃষ্ট করতে পারে। পুরাণের জনপ্রিয়তা এবং আধুনিক অ্যাকশন উপাদানের সমন্বয়কে কেন্দ্র করে স্ক্রিপ্টটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
স্টুডিওর দিক থেকে, দুজনই একটি প্রধান উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার দিকে অগ্রসর। এই সংস্থা চলচ্চিত্রের বাজেট, প্রচার এবং বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করার অন্যতম মূল উপাদান।
এদিকে, কার্তিক আরিয়ান ২০২৬ সালে দুইটি বড় প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রথমটি “নাগঝিলা”, যেখানে তিনি রূপান্তরশীল সাপের চরিত্রে অভিনয় করবেন। এই কমেডি-অ্যাকশন ছবিতে রবি কিশন প্রধান বিরোধী চরিত্রে উপস্থিত থাকবেন।
“নাগঝিলা”র পরিচালনা মৃগধীপ সিং লাম্বা, যিনি “ফুকরেই” সিরিজের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন। উৎপাদন দায়িত্বে রয়েছে করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশন এবং মহাবীর জৈনের মহাবীর জৈন ফিল্মস। নারী প্রধান ভূমিকায় শ্রীলীলাকে দেখা যাবে, যিনি কার্তিকের সঙ্গে এই ছবিতে জুটি বাঁধবেন।
দ্বিতীয় প্রকল্পটি একটি অজানা শিরোনামের সঙ্গীতময় মহাকাব্য, যার দায়িত্বে রয়েছেন অনুরাগ বসু। টি-সিরিজ এই ছবির উৎপাদন ও বিতরণে যুক্ত, এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্তিকের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “তু মেরি মেইন তেরা মেইন তেরা তু মেরি” (২০২৫) বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন না করলেও, তার ক্যারিয়ারকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করেনি। তার কাজের বৈচিত্র্য এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ইচ্ছা তাকে ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় প্রকল্পে যুক্ত রাখছে।
বিনোদন জগতে তার অবস্থান দৃঢ়, কারণ তিনি বাণিজ্যিক ও বিষয়বস্তুগত দিক থেকে সমৃদ্ধি অর্জনকারী চলচ্চিত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। মিথোলজিক্যাল অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার, রূপান্তরশীল সাপের গল্প এবং সঙ্গীতময় মহাকাব্য—এই তিনটি ভিন্ন ধারার প্রকল্পে তার উপস্থিতি শিল্পের বহুমুখিতা প্রকাশ করে।
শিল্পের অভ্যন্তরে এবং দর্শকদের মধ্যে এই নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য উত্তেজনা বাড়ছে। কার্তিক আরিয়ান এবং নিকিল নাগেশ ভাটের সহযোগিতা, পাশাপাশি তার অন্যান্য দুই বড় ছবির প্রস্তুতি, আগামী বছরকে বোলিভুডের জন্য রোমাঞ্চকর করে তুলবে।



