20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসাভারে ছয়জনের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের পর ভবঘুরে সম্রাটের জিজ্ঞাসাবাদে 'সানডে মানডে ক্লোজ' উল্লেখ

সাভারে ছয়জনের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের পর ভবঘুরে সম্রাটের জিজ্ঞাসাবাদে ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ উল্লেখ

সাভার থানায় ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) জিজ্ঞাসাবাদে তার নিজস্ব শব্দে এই কাণ্ডগুলোকে “থার্টি ফোর” অথবা “সানডে মানডে ক্লোজ” বলে উল্লেখ করেন।

সাবেক অপরাধী বলেন, “কোনো পাগল বা ভবঘুরে যদি অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখাই, তবে আমি তৎক্ষণাৎ তাদের থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম”। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তারা তার মানসিক অবস্থা ও অপরাধের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করছেন।

সাভার থানা অপারেশন পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট মানসিক রোগে আক্রান্ত নয়; বরং অতিরিক্ত মাদকসেবার ফলে তার মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক পর্যায়ে মানুষকে হত্যা করা তার মাদকের প্রভাবের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়; আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার আসল বাসস্থান সাভারে নয়। বর্তমানে তার প্রকৃত পরিচয় নির্ণয়ের কাজ চলছে।

সাভার বাসস্ট্যান্ডের নিকটবর্তী মডেল মসজিদে সম্রাট বেশির ভাগ রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই তিনি আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করার পর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন।

পরবর্তী পাঁচ মাসে ঐ ভবন থেকে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালু ছিল, তবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাকে তখন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট দিনের বেলায় থানা ও আশেপাশে ঘোরাফেরা করতেন, তবে গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী সেতুর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন।

সেই সময় তিনি দরিদ্র নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করতেন। এই পদ্ধতি তাকে ধারাবাহিকভাবে শিকারী সংগ্রহের সুযোগ দিত।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী জানান, সন্দেহভাজন অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিকারের পরিচয় নির্ধারণের কাজ বর্তমানে চলমান।

আলীর মতে, এই ছয়টি হত্যার পাশাপাশি সম্রাট অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন; তাই তদন্ত দল বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে।

অধিক তদন্তে সম্রাটের অতীত অপরাধের রেকর্ড, মাদকের ব্যবহার এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হবে।

প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনকে শীঘ্রই আদালতে হাজির করা হবে এবং মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং ভবিষ্যতে একই রকম অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে।

এই কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সাভার থানা ও স্থানীয় প্রশাসন সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে, যাতে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ এড়িয়ে চলা যায় এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দ্রুত জানানো হয়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments