গোপালগঞ্জের র্যাব‑৬ ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি তীব্র অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে, সঙ্গে দুইজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানটি সোমবার, ১৯ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে কাশিয়ানি উপজেলার মাঝিগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চালু হয়। র্যাব‑৬ দলের সদস্যরা স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি শুরু করে এবং দ্রুতই গাঁজা বহনকারী গাড়ি শনাক্ত করে।
মাইক্রোবাসের ভিতরে গাঁজা প্যাকেজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে রাখা ছিল; মোট ওজন ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম নির্ধারিত হয়। গাঁজা ছাড়াও, গাড়িটিই জব্দ করা হয়, যা মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার সন্দেহ রয়েছে।
তল্লাশির সময় দুইজন পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথম গ্রেফতারি মো. আবু তাহের, ৪৪ বছর বয়সী, মৃত নুরুল হুদার পুত্র, যিনি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার দক্ষিণ আধারমানিক গ্রাম থেকে আসেন। দ্বিতীয় গ্রেফতারি মো. নুরুল আলম, ৪১ বছর বয়সী, আবুল কাশেমের পুত্র, একই জেলার পূর্ব ছাগলনাইয়া গ্রাম থেকে।
উভয় সন্দেহভাজনের পরিবারিক পটভূমি রেকর্ডে দেখা যায়, যেখানে তারা স্থানীয় ব্যবসা ও কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন, তবে মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তথ্য এই অভিযানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। গ্রেফতারের সময় তাদের কোনো প্রতিরোধের লক্ষণ দেখা যায়নি।
র্যাব‑৬ সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি অভিযাত্রী দল কাশিয়ানি উপজেলার মাঝিগাতি বাসস্ট্যান্ডে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় গাঁজা ও মাইক্রোবাসের মালিকানা যাচাই করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
উদ্ধারকৃত গাঁজা, জব্দকৃত মাইক্রোবাস এবং গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা কাশিয়ানি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো চালু থাকবে।
আসামিরা কাশিয়ানি থানা আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ পাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের জন্য আদালতে শুনানি হবে। র্যাব‑৬ দল এই ধরনের গাঁজা পাচার বন্ধ করতে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি চালিয়ে যাবে।
গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদক পাচার সমস্যার মোকাবিলায় র্যাবের সক্রিয় অভিযান সম্প্রতি বাড়ছে। এই ধরণের সফল তল্লাশি স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং মাদক সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিযানের ফলাফল স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জোরদার করেছে এবং মাদক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর সতর্কতা বাড়িয়েছে। র্যাব‑৬ ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



