ইংল্যান্ডের প্রাক্তন টেস্ট অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচের আগে দলকে শক্তি যোগিয়েছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দল এবং ২০২২ টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তার নাম শোনা যায়, তবে তিনি সর্বদা টেস্ট ক্রিকেটকে তার মূল পরিচয় হিসেবে ধরে রেখেছেন। গত দুই বছর তিনি শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের টেস্ট শেডিউলে অংশ নেন, সীমিত ওভার ক্রিকেটে কমই দেখা যায়।
আগস্ট মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত ওভাল টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে আঘাত পেয়ে ওকসের টেস্ট ক্যারিয়ার থেমে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে অ্যাশেজ সিরিজে রাখা হয় না এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অবসর ঘোষণার পরই তিনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় দ্রুত অগ্রসর হন এবং ডিসেম্বর মাসে ইন্টারন্যাশনাল লিগ (আইএল) টি‑টোয়েন্টিতে অংশ নেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে এবং ফিটনেসে অতিরিক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে শারীরিক অবস্থার পুনঃনির্মাণ সম্ভব হয়।
বিপিএল‑এ প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে গিয়ে ওকসের মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। তিনি জানান, সিলেটের হয়ে খেলতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন এবং এই নতুন পরিবেশে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ইচ্ছুক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের হয়ে বহুবার বাংলাদেশে এসেছেন, তাই স্থানীয় ভৌগোলিক পরিচিতি তার জন্য কোনো বাধা নয়। নতুন দল ও নতুন ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা তার জন্য একটি রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ।
সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে যোগদানের আগে ওকসের সঙ্গে মোইন আলি, দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, কথোপকথন হয়। আলি ওকসকে দলের মধ্যে স্বাগত জানাতে সহায়তা করেন এবং আগামি ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। ওকস স্বীকার করেন, প্রথমে কিছু পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত সিলেটের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো সময়ের অভাব নেই; এখন তার সময় এসেছে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের।
কাঁধের আঘাতের পর তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওকসের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবসর নেন এবং তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা না করে গর্ব অনুভব করেন। পুনর্বাসনের সময় তিনি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেরে উঠেন এবং ফিটনেসে অতিরিক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে মাঠে ফিরে আসার স্বস্তি পান। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবু তিনি টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রেখেছেন।
আইএল টি‑টোয়েন্টিতে অংশ নেওয়ার পরও ওকসের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি; তিনি টেস্ট ক্রিকেটকে তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের খেলা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, টেস্টের দীর্ঘ সময়ের ধৈর্য এবং কৌশলগত দিকই তাকে সর্বদা আকৃষ্ট করে রেখেছে। এখন সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে তার ভূমিকা সীমিত ওভার ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মেন্টরশিপ দেওয়া।
সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী ম্যাচের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, এবং ওকসের উপস্থিতি দলকে কৌশলগত দিক থেকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি যদিও টেস্ট ক্রিকেটে শেষ হয়েছে, তবু বাংলাদেশে তার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভক্তরা তার পারফরম্যান্সের অপেক্ষায়, এবং ওকসের অভিজ্ঞতা সিলেটের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
বিপিএল‑এর এই মৌসুমে ওকসের অংশগ্রহণ কেবল সিলেট টাইটান্সের শক্তি বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা স্থানীয় লিগে নিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। তার কাঁধের অবস্থা এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ, এবং তিনি বলছেন, ভবিষ্যতে কোনো বড় আঘাতের ভয় না পেয়ে মাঠে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে প্রস্তুত।



