ইংল্যান্ডের জন্য একদিনে দু’টি বিশ্বকাপ জয় করা অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার পর সিলেট টাইটান্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল টিম হোটেলে তিনি জয়ীর অনুভূতি, ২০১৯ ফাইনালের রোমাঞ্চ এবং এক হাতে ব্যাটিং করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলের সঙ্গে কথা ভাগ করে নেন।
ওকসের মতে, দুটি বিশ্বকাপ জয় করা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ২০১৯ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট (ওডিআই) বিশ্বকাপের বিজয় তাকে “অসাধারণ” বলে বর্ণনা করেছেন এবং ২০২২ সালের টি‑২০ বিশ্বকাপের জয়কে “অপ্রত্যাশিত চমক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যোগ করেন, দু’বারের জয় এখন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত।
২০১৫ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের ফলাফল ওকসের জন্য কঠিন ছিল, যা পরবর্তী পরিবর্তনের দরজা খুলে দেয়। তিনি বলেন, টিমের কৌশল ও মানসিকতা সম্পূর্ণভাবে বদলাতে হয়েছিল। ট্রেভর বেলিস ও এউইন মরগানকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে, দলটি এখন বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকেছে। ৩০০‑৩৫০ রান এবং কখনো কখনো ৪০০ রান পর্যন্ত গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল, যা পূর্বের রক্ষণশীল পদ্ধতির তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত।
বোলিং ক্ষেত্রেও ওকসের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুধুমাত্র উইকেট নেওয়ার চেয়ে প্রতিপক্ষকে দমন করা এবং রণ রেট নিয়ন্ত্রণ করা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। “ওডিআই ক্রিকেটে পুরো মানসিকতা বদলে গিয়েছে, এখন পুরো দুনিয়া আমাদের খেলা অনুসরণ করছে,” তিনি উল্লেখ করে দলের আক্রমণাত্মক ও স্মার্ট কৌশলকে প্রশংসা করেছেন।
আক্রমণাত্মক খেলা সহজ নয়, তবে ওকসের মতে, ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পনা এটিকে সম্ভব করেছে। ৫০‑ওভার ফরম্যাটে দলটি নিয়মিতভাবে আক্রমণাত্মক রীতি বজায় রেখেছে, যদিও কখনো কখনো চাপের মুহূর্তে দ্রুত রণ সংগ্রহের জন্য রণ গতি বাড়াতে হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোন বোলারকে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা ঠিক করা দরকার, শুধু হঠাৎ করে সবকে আক্রমণাত্মক করে তোলা নয়।” এই পদ্ধতি দলকে প্রতিপক্ষের ওপর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে।
২০১৯ সালের ফাইনাল ম্যাচের কথা স্মরণ করে ওকসের মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যায়। তিনি বলছেন, “ম্যাচটি যেন কখনো শেষ না হয়, স্নায়ুতে চাপের ঢেউ বয়ে গিয়েছিল। পুরো ১০০ ওভার খেলা শেষ করার পরই সুপার ওভারে সবকিছু নির্ধারিত হয়।” ফাইনালের উত্তেজনা ও মনোযোগের মাত্রা তিনি এমনভাবে বর্ণনা করেছেন, “সেই দিন মাঠে আমার মনোযোগের স্তর কখনো এতটা উচ্চ ছিল না।” এক হাতে ব্যাটিং করার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে, তিনি বলেন, “অবস্থা কঠিন হলেও আমরা হাল ছাড়িনি, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হল।”
বিপিএল‑এ সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে ওকসের যোগদানের ফলে দলটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি টিমের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। “আমি এখানে শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, তরুণদের গঠনেও সাহায্য করতে চাই,” তিনি সংক্ষেপে জানান।
ওকসের উপস্থিতি সিলেট টাইটান্সের জন্য একটি বড় শক্তি, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক কৌশল ও স্মার্ট বোলিং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি দলকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী সপ্তাহে টাইটান্সের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি চলছে, এবং ওকসের নেতৃত্বে দলটি নতুন সিজনে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে অগ্রসর হবে।
ক্রিস ওকসের ক্যারিয়ার এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দু’বারের বিশ্বকাপ জয় এবং এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তার অবদান, উভয়ই তার ক্রীড়া জীবনের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। তার কথায় স্পষ্ট যে, “দুটি বিশ্বকাপ জয় করা, নতুন দলকে গঠন করা—এগুলোই আমার জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।” ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি আক্রমণাত্মক, স্মার্ট এবং ফলপ্রসূ ক্রিকেটের মাধ্যমে সিলেট টাইটান্সকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখছেন।



