22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) গত রোববার ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের পর দুইজন শিক্ষককে পদত্যাগের আদেশ দেয়। এই পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল শিক্ষার্থীদের দাবিতে উল্লিখিত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য ও অবৈধ রাজনৈতিক সংযোগের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মোহসিন এবং সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে একই দিনে চাকরিচ্যুত করা হয়।

লায়েকা বশীরের ফেসবুক পোস্টের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমিক বিরোধের সঞ্চার ঘটে। তিনি ১০ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরে ঘটিত জোড়া খুনের পর হিজাব ও নেকাবের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে একটি মন্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য না রাখার কথা উল্লেখ করেন। এই পোস্টটি কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইন হুমকি এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

অনলাইন বিতর্কের পর, সেমিস্টার বিরতির শেষে রোববার প্রথম ক্লাসের দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিবাদে অংশ নেয়। ছাত্রগণ ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই’ শিরোনামের ব্যানার তুলে ধরে, উভয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানায়। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস স্থগিত থাকবে।

লায়েকা বশীরের মতে, তিনি জুলাই ২০২২-এ গৃহীত গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও, তাকে কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। তবে, তাকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তিনি অন্যায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের হুমকি এবং গুজবের মুখে তার পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বশীরের দাবি অনুযায়ী, গতকাল তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি জমা দেন, যেখানে তিনি ডানপন্থী ছাত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি শিক্ষার্থীদের হুমকি, গালিগালাজ এবং অনলাইন কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পর বশীর এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অব্যাহতিপত্র পাননি, যদিও তিনি শোনা মতে তার পদত্যাগের নোটিশ ইতিমধ্যে জারি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি কোনো নথি না পেয়ে তিনি নিজের আইনি অধিকার রক্ষার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

এদিকে, এ এস এম মোহসিনের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে। উভয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের পেছনে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে যে, পুনরায় ক্লাস চালু হবে কিনা তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্যের সঠিকতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুসরণে উদ্বেগ দেখা যায়। কিছু শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় গুজব ও উত্তেজনা কমে।

শিক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের সংঘাতের সমাধানে শান্তিপূর্ণ সংলাপের গুরুত্ব পুনরায় উজ্জ্বল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রগণ উভয়েরই উচিত পরস্পরের মতামত শোনার জন্য একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি বা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কিত কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন, তবে প্রথমে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও নোটিশ যাচাই করুন, তারপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাত্র ইউনিয়ন বা আইনি পরামর্শদাতার সাহায্য নিন। এভাবে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments