খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হামিম, তিন বছর আগে মা থেকে পাওয়া হাতখরচের সামান্য টাকা দিয়ে চারটি কোয়েল পাখি কিনে ছোটখাটো পাখি পালন শুরু করেন। একই সময়ে তিনি নিজের স্বাবলম্বী ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। কোয়েল পাখি থেকে প্রাপ্ত ডিম বিক্রি করে যে আয় জমাতে থাকেন, তা ধীরে ধীরে তার খামারের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
প্রাথমিকভাবে ১৮০ টাকায় কেনা চারটি কোয়েল দ্রুত ডিম দিতে শুরু করে, আশেপাশের গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমের চাহিদা বাড়ে। ডিমের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের সঙ্গে নিজের সঞ্চয় যোগ করে তিনি প্রথমে ১০০টি কোয়েল কিনে ছোট আকারের শেড গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খামারটি বিস্তৃত হয় এবং বর্তমানে খাগড়াছড়ির কদমতলী এলাকায় এক হাজার কোয়েল, ১১টি ভিন্ন জাতের মুরগি, ৮টি জাতের কবুতর, দুইটি জাতের ঘুঘু এবং ১৬টি ছাগলসহ একটি পূর্ণাঙ্গ খামার পরিচালনা করছেন।
হামিমের খামারে ইন্দোনেশিয়ার কালো আয়াম সেমানি, বিশ্বের বৃহত্তম আকারের ব্রাহ্মা, চীনের কোচিন, মালয়েশিয়ার ছোট সেরেমা এবং ভারতের কালো মাংসের কাদাকনাথসহ বিভিন্ন জাতের মুরগি রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের ‘হেজা’ ও ‘লাইজ্জা’ মুরগি, বিভিন্ন জাতের কবুতর এবং ঘুঘুও পালিত হয়। খামারের মোট বিনিয়োগ প্রায় চার লক্ষ টাকার কাছাকাছি, যা মূলত নিজের সঞ্চয় ও ডিম বিক্রির আয় দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।
খামারটি বাড়ির উঠানেই অবস্থিত; ছাগলের খামার, বড় কোয়েল শেড, কবুতরের ঘর এবং মুরগি, ঘুঘু, কবুতর, পার্শিয়ান বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর ঘর ঘরেই দেখা যায়। বাড়ির সেমিপাকা অংশে তিনটি কক্ষ ও বারান্দায় বিভিন্ন জাতের পাখি ও প্রাণী রাখা হয়েছে, যা ছোট একটি চিড়িয়াখানার মতো। হামিমের বাবা, যিনি পূর্বে কবুতর পালন করতেন, তার প্রভাবেই ছোটবেলা থেকেই পাখি-পশুতে আগ্রহ জন্মায়।
শিক্ষা ও খামার দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, হামিম বর্তমানে মাসে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা আয় করছেন। তার এই সফলতা স্থানীয় যুবকদের মধ্যে স্বাবলম্বী উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কোয়েল পাখি পালন শুরু করার সময় তার কাছে বড় স্বপ্ন ছিল না, তবে ধারাবাহিকভাবে সঞ্চয় ও পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে খামারকে সম্প্রসারিত করতে পেরেছেন।
হামিমের গল্প থেকে দেখা যায়, ছোট আর্থিক বিনিয়োগ ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষি ও পশুপালন খাতে টেকসই আয় অর্জন সম্ভব। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, শিক্ষার পাশাপাশি নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রের ছোট প্রকল্পে হাত দিয়ে কাজ শুরু করা; প্রাথমিক বিনিয়োগ যতই ছোট হোক না কেন, তা সঠিক পরিকল্পনা ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালনা করলে বড় ফল দিতে পারে।
এই ধরনের উদ্যোগের সফলতা স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে এবং যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ প্রশস্ত করে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থী যদি তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ব্যবহার করে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করে, তবে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ বাড়বে।



