27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নির্বাচনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নির্বাচনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দাখা দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ক্রিস্টেনসেন ১২ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে শপথ গ্রহণের দুই দিন পর দেশের রাজধানীতে পৌঁছেছিলেন। এই সাক্ষাৎ তারিক রহমানের সঙ্গে তার প্রথম রাজনৈতিক মিটিং হিসেবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে উভয় পক্ষই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারে দূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সন্তুষ্ট এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে গঠনমূলক ও স্বচ্ছ বলে মূল্যায়ন করেন।

বিএনপি যৌথ সচিব সাধারণ হুমায়ুন কবিরও একই দিনে মিডিয়ার সামনে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চলমান এবং তা অব্যাহত থাকবে। হুমায়ুনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্ছ্বাস দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সাক্ষাৎকারে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। হুমায়ুন জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে রয়ে যাবে এবং উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানও আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। হুমায়ুন উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বহুপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের জন্য বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

বিকাশ সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তিবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি পেশাগত ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা ক্ষেত্রেও সমন্বয় সাধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই এই ক্ষেত্রগুলোকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও তারিক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ দূত মাইকেল মিলার, এবং এতে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালির দূতরাও অংশগ্রহণ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই উপস্থিতি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বহুমুখিতা ও গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

হুমায়ুনের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলোও পূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা। তিনি ভবিষ্যতে এইসব ক্ষেত্রের সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল উভয়ই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এবং এই প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।

দূত ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্য এবং হুমায়ুনের বক্তব্য উভয়ই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মিটিংগুলো দেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments