রংপুর অঞ্চলের মরিচ চাষে এই মৌসুমে দাম ও চাহিদা উভয়ই বেড়েছে, ফলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (DAE) জানায়, বর্তমান মৌসুমে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নিলফামারির পাঁচটি জেলায় মোট ৪,৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে।
গত বছর একই অঞ্চলে ৪,৬৭০ হেক্টর মরিচ চাষ করা হয়েছিল, অর্থাৎ চাষের ক্ষেত্রফল কিছুটা কমে এসেছে। তবে উৎপাদন দক্ষতা ও বাজারমূল্য উঁচু হওয়ায় কৃষকদের মোট আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি বিঘা (প্রায় ১.৬৩ একর) জমিতে মরিচ চাষের গড় খরচ প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা। একই পরিসরে উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ মাউনডের মধ্যে থাকে, যা প্রায় ৩২০ থেকে ৩৭০ কিলোগ্রাম সমান।
গত বছর মরিচের বিক্রয়মূল্য কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ছিল। তবে এই বছর দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি, কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রিটেল বাজারে দাম আরও বাড়ে, কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার গাজেরকুটি গ্রাম থেকে ৫৮ বছর বয়সী আফজাল হোসেন এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩৮,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে মরিচ চাষ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে ২০ মাউনড ফসল কাটিয়ে ৬০,০০০ টাকা আয় করেছেন এবং প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি মরিচ বিক্রি করছেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা ভাটিবাড়ি গ্রাম থেকে ৬৫ বছর বয়সী অনিল চন্দ্র বর্মন দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষে মোট ২.৫ লক্ষ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন। তিনি ইতিমধ্যে ১.৫ লক্ষ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন।
রংপুরের চৌধুরাণী গ্রাম থেকে ৫০ বছর বয়সী মজেদুল ইসলাম পাঁচ বিঘা জমিতে গত বছর ১.৫ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। এই বছর একই পরিমাণ জমিতে তিনি প্রায় ৪ লক্ষ টাকার লাভের লক্ষ্য রাখছেন।
রংপুর পৌর বাজারের সবজি হোলসেল ব্যবসায়ী শাহ জামাল জানান, গত বছর মরিচের সরবরাহ অন্য অঞ্চল থেকে করতে হতো, তবে এই বছর দেশের অন্যান্য অংশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রংপুরের মরিচ সরাসরি বাজারে পৌঁছাচ্ছে, ফলে স্থানীয় কৃষকদের আয় দ্বিগুণে বেড়েছে।
বাজারে উচ্চ চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের সমন্বয়ে মরিচের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য স্বল্পমেয়াদে লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে, ফলে ভবিষ্যতে মার্জিন সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি মৌসুমের শেষের দিকে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় বা অন্য অঞ্চলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হয়, তবে মরিচের দাম পুনরায় সামঞ্জস্য হতে পারে। তাই কৃষকদের জন্য বাজারের দিকনির্দেশনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা তদনুযায়ী সমন্বয় করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, রংপুরের মরিচ চাষে উচ্চ দাম ও চাহিদা কৃষকদের আয় বাড়িয়েছে, তবে দামের অস্থিরতা ও উৎপাদন খরচের পরিবর্তন ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাজারের গতিবিধি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে বিক্রি করা লাভের সর্বোচ্চ মাত্রা নিশ্চিত করবে।



