অ্যামাজন এমজিএমের আসন্ন রোমান্টিক কমেডি ‘ইউ ডেজার্ভ ইচ আদার’ থেকে টিমোথি বাসফিল্ডের অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিনেতা ও পরিচালককে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ছবির পোস্ট‑প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছে।
‘ইউ ডেজার্ভ ইচ আদার’ ছবিতে মেগান ফাহি ও পেন ব্যাডগ্লি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই চলচ্চিত্রটি ২০২০ সালে প্রকাশিত সারা হগলের একই নামের বেস্টসেলিং উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে বাগদত্ত দম্পতি প্রেমের আগুন নিভে যাওয়ার পর একে অপরকে বিয়ে বাতিল করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, আর শেষ পর্যন্ত আবার প্রেমে পড়ে।
১ জানুয়ারি না, টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতার আদেশ জারি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ফক্স টেলিভিশনের ‘দ্য ক্লিনিং লেডি’ সিরিজের শুটিংয়ের সময় শিশুদের সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন। এই সিরিজে তিনি একাধিক পর্বের পরিচালক এবং একটি পর্বে ছোট ভূমিকা পালন করছিলেন।
বসফিল্ড নিজে আলবুকার্কে, নিউ মেক্সিকোতে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে দুইটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে: নাবালকের সঙ্গে অপরাধমূলক যৌন সংস্পর্শ এবং শিশু নির্যাতন। এই অভিযোগগুলো একটি তদন্তের ফল, যেখানে দুইজন পুরুষ নাবালকের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
অভিনেতা নিজে এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে, তবে একই সময়ে তার বিরুদ্ধে আরেকটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এক প্রোসিকিউশন ফাইল অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে বি স্ট্রিট থিয়েটারে একটি অডিশনের সময় কিশোরী মেয়ের ওপর অনুপযুক্ত স্পর্শ allegedly করেছেন।
এছাড়াও, ১৯৯৪ সালের ‘লিটল বিগ লিগ’ ছবির শুটিংয়ের সময় ১৭ বছর বয়সী এক এক্সট্রা তার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিল। সেই সময়ে বাসফিল্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয় এবং মামলাটি সমাধান হয়। ২০১২ সালে আরেকজন নারী দাবি করেন যে তিনি তার সঙ্গে ডেটের সময় অনুপযুক্ত স্পর্শের শিকার হয়েছেন, তবে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এই নতুন অভিযোগের পর, বাসফিল্ডের ট্যালেন্ট এজেন্সি ইনোভেটিভ আর্টিস্টস তার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেয়। এজেন্সি তার পেশাগত সম্পর্কের সমাপ্তি জানিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাদ দেয়া হয়েছে।
অধিকন্তু, ‘ল’অর্ড অ্যান্ড অর্ডার: এসভিইউ’ সিরিজের একটি পর্ব, যেখানে বাসফিল্ড গেস্ট স্টার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেটি নেটওয়ার্ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তার ওপর চলমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
বসফিল্ডের পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। সেই দিন তিনি প্রিট্রায়াল ডিটেনশন হিয়ারিং-এ উপস্থিত হবেন, যেখানে তার জেলখানা বা বাড়িতে মুক্তি পাওয়ার শর্তাবলী নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার ফলে ‘ইউ ডেজার্ভ ইচ আদার’ ছবির প্রচার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রযোজকরা এখন পর্যন্ত ছবির মুক্তির তারিখ বা অতিরিক্ত সম্পাদনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
শিল্প জগতে এই ধরনের অভিযোগের ফলে প্রভাব বিস্তৃত হয়, বিশেষত যখন প্রধান অভিনেতা বা পরিচালক জড়িত থাকে। দর্শক ও সমর্থকরা এখন ছবির বিষয়বস্তু ও নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাবে তা নজরে রয়েছে।
বসফিল্ডের মামলার অগ্রগতি এবং তার আইনি ফলাফল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে তার দোষারোপের প্রমাণ ও রক্ষা করার সুযোগ পাবেন।



