ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সামরিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়া দিল্লি ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। দুই দেশের সেনা বাহিনীর মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
এই প্রকাশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই তিন দেশই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও সৌদি আরবের রিয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাত্রা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, তুরস্কের কূটনৈতিক মিশন ইসলামাবাদে সক্রিয় হয়ে সুদানের দিকে ঝুঁকছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা গঠনে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করার পথে রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি এয়ার মার্শাল আমির মাসুদ এই চুক্তির চূড়ান্ততা নিশ্চিত করেছেন এবং জে-এফ-১৭ যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সিস্টেমের বিক্রয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সৌদি আরব, যা তেলসম্পদে সমৃদ্ধ এবং জি-২০ গোষ্ঠীর একমাত্র আরব প্রতিনিধিত্বকারী দেশ, এই জোটে ধর্মীয় ও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মক্কা ও মদিনার মতো ইসলামিক পবিত্র শহরগুলোর উপস্থিতি এই জোটের ধর্মীয় বৈধতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাকিস্তান, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তি, সামরিক শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে চায়। তুরস্ক, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী হিসেবে, সামরিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রাখে এবং এই জোটে তার অংশগ্রহণকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছে।
তুরস্কের সামরিক ক্ষমতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক অবস্থানকে একত্রে ব্যবহার করে, জোটটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। উভয় দেশই অস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করতে সচেষ্ট, যা তাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্লুমবার্গের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই সম্ভাব্য জোটে বাংলাদেশ ও চীনকে অতিরিক্ত অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ, যদিও ভৌগোলিকভাবে ছোট, তবে তার কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতা অঞ্চলীয় গতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জোটের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা বাড়াতে পারে। চীন ও বাংলাদেশ উভয়েরই এশিয়ার নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রুটে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, যা জোটের কৌশলগত পরিধি বিস্তারে সহায়তা করবে।
ইন্ডিয়ার সেনা প্রধানের মন্তব্যের পর, ভারত সরকারও অঞ্চলের সামরিক গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা থাকায়, কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সমন্বয় সম্ভব হবে।
এই জোটের গঠন ও বিস্তারের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ইতিমধ্যে কূটনৈতিক মিটিং ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে।
অবশেষে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, সৌদি, তুর্কি ও পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য জোটের গঠন মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।



