বিগ বস ১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আমির খান উপস্থিত হয়ে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সালমান খানের সঙ্গে পুনর্মিলন করেন। অনুষ্ঠানটি টেলিভিশন ঘরে রঙিন মুহূর্তে ভরপুর ছিল, যেখানে দুজনের বন্ধুত্বের গল্পগুলো হালকা মেজাজে শেয়ার করা হয়।
আমিরের উপস্থিতি মূলত তার পুত্র জুনাইদ খানের আসন্ন চলচ্চিত্র “লাভি-ইয়াপা”‑এর প্রচারমূলক কাজের অংশ ছিল। জুনাইদ এবং সহ-অভিনেত্রী খুশি কাপুরও সঙ্গে ছিলেন, ফলে তিনজনের সমন্বয়ে একটি ছোটো সেগমেন্ট তৈরি হয়।
সেই সেগমেন্টে জুনাইদ ও খুশি হালকা মেজাজে দুজনের বন্ধুত্বের পরীক্ষা হিসেবে ফোন বদল করার প্রস্তাব দেন। দুজনের মধ্যে হেসে‑খেলায় এই ধারণা গ্রহণ করা হয় এবং দুজনই একে অপরের মোবাইল হাতে নেন।
ফোন বদল করার পর সালমান খান আমিরকে মজা করে তাড়া করেন, বলছেন যে আমিরের বিবাহিত জীবন ও সন্তান থাকায় কোনো সমস্যার মুখোমুখি হবেন না, আর সালমানের অবিবাহিত অবস্থার তুলনা করে হাস্যকর মন্তব্য করেন।
আমির সালমানকে ফোন আনলক করতে উৎসাহিত করেন, এবং সালমান কিছুটা দ্বিধা দেখিয়ে ফোনের পাসকোড প্রবেশে হেসে‑খেলায় সময় কাটান। এই মুহূর্তে দুজনের মধ্যে হালকা তর্কের সুরে হাসি ছড়িয়ে পড়ে।
ফোন খুলে দেখার পর আমির সালমানের ফোনে এখনও একটি পুরনো কন্ট্যাক্টের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন এবং জিজ্ঞেস করেন কেন সেটি ব্লক করা হয়েছে। সালমান উত্তর দেন যে সেই ব্যক্তি তাকে প্রায়ই বিরক্ত করে আসেন, ফলে তিনি তাকে ব্লক করেছেন।
এরপর আমির সালমানকে নিজের ফোনে কিছু চেক করতে বলেন, যার ওপর সালমান মজার ছলে উত্তর দেন যে তার ফোনে কেবল রীনা দত্ত বা কিরণ রাওর থেকে কোনো মেসেজই থাকতে পারে। এই কথোপকথনটি দর্শকদের মধ্যে হাসির ফোয়ারা তুলতে সাহায্য করে।
দুই অভিনেতার এই হালকা-ফুলকা আলাপচারিতা পুরো অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ততা যোগায় এবং তাদের বন্ধুত্বের মজবুত ভিত্তি স্পষ্ট করে। দর্শকরা তাদের পারস্পরিক রসিকতা ও সময়োপযোগী মন্তব্যে আনন্দিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দুজনই ১৯৪৪ সালের ক্লাসিক “আন্দাজ আপনা আপনা”‑এর বিখ্যাত বাইক দৃশ্য পুনরায় অভিনয় করেন। পটভূমিতে “দো মাস্তানে চালে জিন্দেগি বানানে” গানের সুর বাজে, যা স্মৃতির স্রোতকে তীব্র করে।
এই পুনর্নির্মাণের সময় আমির খান হালকা মেজাজে একটি সিক্যুয়েল তৈরির ইঙ্গিত দেন, যা দর্শকদের কল্পনা জাগিয়ে তোলে এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা উন্মোচিত করে।
সামগ্রিকভাবে, বিগ বস ১৮ ফাইনালের এই অংশটি শুধু একটি বিনোদনমূলক মুহূর্তই নয়, বরং দুই শিল্পীর মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের প্রকাশও বটে। তাদের স্বাভাবিক হাস্যরস ও পারস্পরিক সমঝোতা অনুষ্ঠানের মেজাজকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
দর্শক ও অনলাইন ফ্যানদের কাছ থেকে এই দৃশ্যের জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে সবাই দুজনের মজার কথোপকথন ও স্মরণীয় দৃশ্যের প্রশংসা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মেলামেশা আরও বেশি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



