১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহর নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির অবস্থায় রয়েছে। সরকার ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সকল বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮৯৭,০০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে শহরে মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপগুলোকে কেন্দ্র করে শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত দেখা দিচ্ছে, বিশেষত ট্রাফিক ও পাবলিক পরিষেবায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের জন্য লিফলেটগুলো ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি বাড়িতে বিতরণ করা হবে, যা ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করবে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভোটার তালিকা যাচাই ও লিফলেট বিতরণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দল যুক্ত করা হয়েছে।
অস্ত্র জমা নির্দেশনা অনুসরণে নাগরিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলেও, কিছু এলাকায় জমা প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যা গাড়ি চলাচলকে প্রভাবিত করছে।
এই সময়ে শহরে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন, যা ট্রাফিক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা উস্কে দিয়েছে। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বোমা কাল্লু’ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। নাজিরাবাজারে জুতার কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কোনো প্রাণহানি না ঘটিয়ে।
রাজনৈতিক দিক থেকে, উপদেষ্টাহাদি হত্যাকাণ্ড এবং কাউন্সিলর বাপ্পির অজানা অধ্যায়ের তদন্ত এখনও চলমান। এই মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল ও শাসক দল উভয়ই তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। বিরোধীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত মোতায়েনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে, যেখানে শাসক দল এটিকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছে।
অধিকন্তু, এনসিপি নেতা পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও আটক সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে এসেছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ধরনের অভিযোগগুলো নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর সরকারী নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রত্যাশিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৃহৎ মোতায়েনের ফলে নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে কিনা, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা শহর বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অস্ত্র জমা নির্দেশনা মেনে চলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই সময়ে ঘটিত দুর্ঘটনা, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও জনমত গঠন এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



