ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – দেশের সোনার বাজারে গত সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ মূল্যে লেনদেন হয়েছে। ১০ গ্রাম সোনার দাম পূর্বের রেকর্ডকে অতিক্রম করে নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উত্থানবোধক প্রবণতার সরাসরি ফলাফল।
বিশ্বব্যাপী সোনার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে রপ্তানি ও আমদানি উভয় ক্ষেত্রেই চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে গৃহস্থালির সঞ্চয়, অলংকারের চাহিদা এবং সোনার ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ার ফলে স্থানীয় বাজারে দাম তীব্রভাবে উত্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিমালা, যা সোনার ঋণ সুদের হার সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়, তা বাজারে তরলতা বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ব্যাংকগুলো সোনার ঋণ পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছে, যা সরাসরি সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দামের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।
স্থানীয় গহনা বিক্রেতারা উল্লেখ করছেন যে, উচ্চ দামের কারণে গ্রাহকরা ক্রয় পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন। ফলে বিক্রয় পরিমাণে সাময়িক হ্রাস দেখা গেছে, যদিও বিক্রয় মূল্যে বৃদ্ধি ঘটেছে। বিক্রেতারা মুনাফা রক্ষা করতে পণ্য মূল্য সমন্বয় এবং বিক্রয় কৌশল পরিবর্তন করছেন।
সোনার রপ্তানি-আমদানি সংক্রান্ত ব্যবসায়িক সংস্থা জানিয়েছে যে, উচ্চ দামের ফলে আমদানি খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার চোরাচালান ও পাচার কার্যক্রমের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগে তদারকি বাড়ানো হয়েছে, তবে বাজারে কালো বাজারের কার্যকলাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, সোনার দাম দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ থাকলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে, সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা পণ্যের মূল্যে প্রভাব পড়তে পারে, যা সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে।
বাজারের বর্তমান প্রবণতা নির্দেশ করে যে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম স্থিতিশীল থাকে বা আরও বাড়ে, তবে দেশীয় দামেরও একই রকম উত্থান বজায় থাকবে। তবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রা বিনিময় হার এবং শুল্ক নীতির পরিবর্তন দামের দিক পরিবর্তন করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় হবে সোনার বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কালো বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে, ভোক্তাদের জন্য সোনার বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, দেশের সোনার বাজারে ধারাবাহিক রেকর্ড উচ্চতা নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। উচ্চ দামের প্রভাব ভোক্তা আচরণ, গহনা শিল্প, ব্যাংকিং সেক্টর এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি সহ বহু দিকেই স্পষ্ট। ভবিষ্যতে দামের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতি, মুদ্রা নীতি এবং সরকারী নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতার উপর।



