যশোরের সদর উপজেলা রামনগর ইউনিয়নে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আফিয়া ও তার মা মনিরা খাতুনকে নতুন বাড়ির চাবি প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে অনুষ্ঠিত হয়; তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দম্পতিকে ঘর উপহার দেন এবং ভবিষ্যৎ নীতি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আফিয়া ২০২২ সালে অ্যালবেনিজম রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার জন্মের পরই গায়ের রঙের কারণে বাবা মোজাফফর হোসেন তাকে স্বীকার করতে অস্বীকার করেন, ফলে মা মনিরা একা সন্তানকে লালন-পালন করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বাবা তার সঙ্গীকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান, ফলে মা ও মেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থায়ী ও অনিরাপদ অবস্থায় বসবাস করছিলেন।
বিএনপি তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুসরণ করে, রামনগর ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের পাশাপাশি ডা. আব্দুল আজিজ (বিএনপি আহ্বায়ক), ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বাড়ি হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন হয় তবে পরিবার ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। তিনি পানির সংকট দূর করতে খাল কাটা কর্মসূচি পুনরায় চালু করার কথা বলেন এবং তৃণমূলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে এবং ইমাম‑মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মা মনিরা খাতুন নতুন বাড়ি পেয়ে অশ্রুতে ভেজা মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টের পর এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এবং তারেক রহমান ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে অ্যালবেনিজম আক্রান্ত শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা সবাই একমত যে, আফিয়া ও তার মা’কে এই সহায়তা প্রদান করা সমাজের ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্বের প্রতিফলন। তারা উল্লেখ করেন, পূর্বে একই ধরনের কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগের অভাব ছিল, যা এখন এই কাজের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে।
অন্যদিকে, ruling party (আওয়ামী লীগ) এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ ধরনের সহায়তা প্রদান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। এই অনুপস্থিতি স্থানীয় স্তরে সরকারের অ্যালবেনিজম রোগী ও তাদের পরিবারকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ঘাটতি নির্দেশ করে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
বিএনপি এই উদ্যোগকে তার সামাজিক ন্যায়বিচার ও গ্রামীণ উন্নয়ন নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে যদি দলটি সরকার গঠন করে, তবে আফিয়া ও মনিরার মতো দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য আরও বিস্তৃত সহায়তা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে মানবিক সহায়তার প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।



