রাবাতের স্টেড প্রিন্স মুলায় আব্দেল্লাহ-এ অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপের ফাইনালে, মরোক্কো ও সেনেগাল দলের মধ্যে ১-০ স্কোরে সেনেগাল বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয় শিরোপা অর্জন করল। তবে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে সেনেগালের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং ১৫ মিনিটের বিরতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মরোক্কোর ফুটবল ফেডারেশন আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ম্যাচের শেষের দিকে মরোক্কোর পেনাল্টি সুযোগের জন্য ভিএআর পর্যালোচনা করা হয়। ভিএআর অনুসারে, এল হাজি মালিক দিউফের পেনাল্টি এলাকায় ব্রাহিম দিয়াজকে টেনে নেওয়ার অভিযোগে পেনাল্টি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর, মরোক্কোর বেশিরভাগ খেলোয়াড়, কোচের নির্দেশে, মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা ফিরে আসে এবং দিয়াজ পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে তিনি প্যানেকা শৈলীতে শটটি মিস করেন।
সেনেগালের পাপা গেয়ে অতিরিক্ত সময়ের ৯৪তম মিনিটে একমাত্র গোল করে দলকে বিজয়ী করে তোলেন। গেয়ের এই গোলই ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে, যা সেনেগালের দ্বিতীয় আফ্রিকান কাপ শিরোপা নিশ্চিত করে।
মরোক্কোর রয়্যাল মরোক্কো ফুটবল ফেডারেশন (FRMF) ম্যাচের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে CAF এবং FIFA-কে অনুরোধ করা হয়েছে সেনেগালের মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং পেনাল্টি সিদ্ধান্তের ওপর আইনি পর্যালোচনা করতে। ফেডারেশন উল্লেখ করে, এই ঘটনাগুলি ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি মিসের পর নিজের ভুল স্বীকার করে এবং প্রকাশ করেন যে তিনি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতা তার আত্মাকে কষ্ট দিয়েছে এবং পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। তবে মরোক্কোর অভ্যন্তরে এই ব্যর্থতাকে সেনেগালের পদত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে, এবং এই ঘটনার আইনি দিকটি উপেক্ষা করা যাবে না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করা হয়েছে।
মরোক্কোর প্রধান কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুইওও গেয়ের গোলের পর সেনেগালের পদক্ষেপের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ম্যাচের সময় সেনেগালের খেলোয়াড়দের আচরণ ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করেছে এবং ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। রেগ্রাগুইও এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার ন্যায়বিচার কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান।
সেনেগালের পাপা গেয়ের গোলের পর, ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, আফ্রিকান কাপের পরবর্তী রাউন্ডে মরোক্কো দলকে অন্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে। তবে এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, মরোক্কোর ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা এবং সংশোধনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা রাখে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত এবং সেনেগালের পদত্যাগ উভয়ই আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উভয় দলের খেলোয়াড় ও কোচের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ম্যাচের ফলাফল শুধুমাত্র গোলের ওপর নয়, বরং মাঠে ঘটিত ঘটনাবলীর ওপরও নির্ভরশীল।
এই ঘটনার পর, মরোক্কোর ফেডারেশন আইনি পথে গিয়ে CAF ও FIFA-কে অনুরোধ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের বিরোধের জন্য স্পষ্ট নীতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখতে, উভয় দলের খেলোয়াড়দেরও মানসিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।



