ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার‑প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র বাজেয়াপ্তের জন্য ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ এর অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালু করেছে। ঐ দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দপ্তরসহ আটটি অপরাধ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করবেন।
অভিযানের মূল লক্ষ্য হল নির্বাচনের পূর্বে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং অবৈধ অস্ত্রের সঞ্চয় নিবারণ করা। ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) একসাথে কাজ করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র অনুসন্ধান চালাবে।
অভিযানটি দেশের অন্যান্য অংশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ এর ধারাবাহিকতা, যা সারা দেশে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা এবং অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। ডিএমপি এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভোটার ও প্রার্থীদের কোনো হুমকি না থাকে।
সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নেতৃত্বে সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই সভায় সব থানা ওসিরা, অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার এবং দপ্তরের তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রথমত, কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে না; দ্বিতীয়ত, কর্মীরা প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারবে না; তৃতীয়ত, ভোটের সময় পুলিশ সদস্যদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
এই নির্দেশনাগুলি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য গৃহীত, এবং সকল স্তরের কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ডিএমপি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মাঠে সক্রিয়ভাবে তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে, ডিএমপি বিশেষায়িত সিটিটিসি ইউনিট এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ২২ জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে গোপন নজরদারি চালিয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান নেবে।
অভিযানের তীব্রতা বাড়াতে, ডিএমপি সহকারী কমিশনার থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা পর্যন্ত মাঠে উপস্থিত থাকবেন। তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন সনাক্তকৃত অবৈধ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা সম্ভব হবে।
অভিযানটি জাতীয় পর্যায়ে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ এর অংশ, যা দেশের বিভিন্ন শহরে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই ফেজের লক্ষ্য হল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ চেইন বন্ধ করা।
ডিএমপি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সব ধরনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার আক্রমণ, গুলিবিদ্ধি, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ।
অভিযানের ফলস্বরূপ, নির্বাচনের পূর্বে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং অবৈধ অস্ত্রের সঞ্চয় নষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিএমপি এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে চায় এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে চায়।
ডিএমপি সর্বশেষে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনের সময় কোনো পুলিশ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে না, কোনো খাবার গ্রহণ করবে না এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। এই নীতিমালা অনুসরণ করে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



