18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাশিয়ান রাষ্ট্রপত্রে ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড সংযুক্তি পরিকল্পনা প্রশংসা, ইউরোপের বিরোধিতা সমালোচনা

রাশিয়ান রাষ্ট্রপত্রে ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড সংযুক্তি পরিকল্পনা প্রশংসা, ইউরোপের বিরোধিতা সমালোচনা

রাশিয়ার সরকারি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনা প্রশংসা করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধিতা কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “ইতিহাসের অন্যতম বড় চুক্তি” বলা হচ্ছে এবং ইউরোপের কিছু দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পথে বাধা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে গ্রীনল্যান্ডের আশেপাশে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, “রাশিয়ার ডেস্ট্রয়ার, চীনের ডেস্ট্রয়ার এবং আরও বড় রাশিয়ার সাবমেরিন সব জায়গায় রয়েছে”। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে গ্রীনল্যান্ডের ওপর আমেরিকান নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও শক্তি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

এই মন্তব্যের পর রাশিয়ার সরকারি পত্রিকা, রসিয়াস্কায়া গাজেটা, ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে একটি উষ্ণ সুরে প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে কোপেনহেগেনের অটলতা এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের “মক সলিডারিটি” ট্রাম্পের ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে বাধা দিচ্ছে।

রসিয়াস্কায়া গাজেটা লিখেছে, “ইউরোপকে আমেরিকান মহিমার প্রয়োজন নেই, যা ট্রাম্প প্রচার করছেন” এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কিছু ইউরোপীয় দেশকে “মিথ্যা বন্ধুত্বের মুখোশে” যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে রোধ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। পত্রিকাটি যুক্তি দিয়েছে যে ব্রাসেলসের লক্ষ্য ট্রাম্পকে মধ্যমেয়াদী কংগ্রেসীয় নির্বাচনে পরাজিত করা এবং তার বড় চুক্তি সম্পন্ন করা থেকে বাধা দেওয়া।

নিবন্ধে “সর্ববৃহৎ চুক্তি” শব্দটি ব্যবহার করে ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড সংযুক্তি পরিকল্পনাকে বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও পত্রিকাটি স্পষ্ট করে জানায় যে এটি রাশিয়ার সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে, কোনো আমেরিকান মিডিয়া নয়। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে যে যদি ট্রাম্প ৪ জুলাই ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীর সাথে গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে, তবে তিনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হবেন।

গ্রীনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের পরিমাণ রাশিয়ার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম হয়ে যাবে, কানাডার পরিমাণ অতিক্রম করবে বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে। এই পরিবর্তনকে পত্রিকাটি “আব্রাহাম লিঙ্কনের ১৮৬২ সালের দাসত্ব বিলোপের মতো” এবং “নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের ভূখণ্ডীয় বিজয়ের সমতুল্য” হিসেবে তুলনা করেছে।

রসিয়াস্কায়া গাজেটা আরও যুক্তি দিয়েছে যে গ্রীনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে, আমেরিকান জনগণ এই অর্জনকে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং এটি দেশের মহিমা বাড়াবে। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে যে এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে।

এই প্রকাশের পর রাশিয়ার সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে তারা ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড সংযুক্তি পরিকল্পনাকে রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধের জন্য সমালোচনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই রাশিয়ান মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। যদি ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়েরই আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বাড়বে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

অবশেষে, রসিয়াস্কায়া গাজেটা উল্লেখ করেছে যে গ্রীনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডিক আকার রাশিয়ার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম হবে, যা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ-রাশিয়া ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments