ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় ও মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কলেজ ফুটবলের শিরোপা ম্যাচটি রবিবার বিকেলে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের সামনে গড়ে উঠেছে। স্ক্রিনরাইটার অ্যাঞ্জেলো পিজ্জো, রুডি ও হুসিয়ার্সের লেখক, হার্ড রক হোটেল থেকে সাউথ বিচের পথে উবারে যাত্রা করছিলেন, যেখানে তিনি ইন্ডিয়ানা রেড রঙে সজ্জিত বারগুলোতে প্রবেশের পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি গাড়ি চালিয়ে টার্নপিকের পাশে গিয়ে বললেন, “মায়ামি শহরটা যেন আমাদের দখলে এসেছে”। পিজ্জো, যিনি ব্লুমিংটনে বসবাস করেন, ইন্ডিয়ানা স্পোর্টস চলচ্চিত্রের অন্যতম স্রষ্টা হিসেবে পরিচিত, এই ম্যাচকে হলিউডের ক্লাসিক আন্ডারডগ গল্পের মতো বর্ণনা করেছেন।
পিজ্জো উল্লেখ করেন, “আমরা চূড়ান্ত আন্ডারডগের গল্প, এমন একটি দল যার ওপর কেউ বেশি বিশ্বাস করে না, আর এখন একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি”। তিনি যুক্তি দেন যে ইন্ডিয়ানা, যাকে প্রায়শই “ফ্লাইওভার” রাজ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, মায়ামির মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও ইন্ডিয়ানা এই সিজনে কোনো পাঁচ-তারকা রিক্রুট পায়নি, মায়ামির কাছে দুইজন আছে, তবু ইন্ডিয়ানা ৮.৫ পয়েন্টের ফেভারিট হিসেবে শুরু করেছে এবং পুরো সিজন জুড়ে কোনো পরাজয় পাননি।
ম্যাচটি ESPN ও তার বিভিন্ন সিমুলকাস্টে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যা দেশের সর্বত্র ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। মায়ামির ২৩ বছর বয়সী কোয়ার্টারব্যাক কারসন বেক, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শেষবার জাতীয় শিরোপা জিতার দশ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন, তার দলকে পাঁচটি শিরোপা জয়ের গৌরব পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছেন। বেকের উপস্থিতি মায়ামির ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ তিনি দলকে অতীতের গৌরবময় সময়ে ফিরিয়ে আনতে চায়।
ইন্ডিয়ানা ফুটবলের ইতিহাসে এখনো কোনো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ নেই, এবং শেষ বোল গেমের জয় ৩৪ বছর আগে ঘটেছিল। এই ম্যাচে ইন্ডিয়ানা হুসিয়ার্সের রঙে সজ্জিত ভিড় শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে; তারা হুইসেল বাজিয়ে, বারগুলোতে প্রবেশ করে এবং রেড রঙের পতাকা উড়িয়ে গর্ব প্রকাশ করছে। এই দৃশ্যটি ক্রীড়া উত্সবের পাশাপাশি হলিউডের নাটকীয় দৃশ্যের স্মরণ করিয়ে দেয়।
মায়ামি হ্যারিকেনসের ভক্তরাও শহরের বিভিন্ন কোণে সমবেত হয়েছে, যেখানে তারা বেকের নেতৃত্বে দলকে পুনরায় শীর্ষে ফিরিয়ে আনার আশা পোষণ করছে। মায়ামি ১৯ বছরের মধ্যে পাঁচটি শিরোপা জিতেছে, যা তাদের ঐতিহাসিক শক্তি নির্দেশ করে। তবে ইন্ডিয়ানা হুসিয়ার্সের ধারাবাহিক জয় এবং বর্তমান ফেভারিট অবস্থান এই ম্যাচকে দু’দলই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ম্যাচের পূর্বাভাসে ইন্ডিয়ানা ৮.৫ পয়েন্টের সুবিধা নিয়ে শুরু করবে, তবে উভয় দলের সমর্থকরা জানেন যে ক্রীড়া মাঠে কোনো ফলাফলই নিশ্চিত নয়। পিজ্জোর মতে, এই ম্যাচটি ডেভিড ও গলিয়াথের আধুনিক রূপ, যেখানে ছোট দল বড় দলের মুখোমুখি হয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলে। যদিও ইন্ডিয়ানা ফেভারিট, তবু মায়ামির ঐতিহ্যবাহী শক্তি ও তরুণ কোয়ার্টারব্যাকের উপস্থিতি ম্যাচকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ম্যাচের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, বিজয়ী দল পরের সপ্তাহে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত রাউন্ডে প্রবেশ করবে। উভয় দলই এই সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে চায়, যাতে তাদের সিজনের শেষটি গৌরবময়ভাবে শেষ হয়। ইন্ডিয়ানা ও মায়ামি উভয়েরই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন রয়েছে, এবং এই স্বপ্নই আজকের ম্যাচকে অতিরিক্ত উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের চারপাশে উভয় দলের রঙের ঝলক দেখা যায়, যেখানে ভিড়ের চিৎকার, সঙ্গীত ও উল্লাসের মিশ্রণ একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই দৃশ্যটি কেবল ক্রীড়া নয়, বরং সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনও প্রকাশ করে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, উভয় দলের সমর্থকরা এই মুহূর্তকে স্মরণীয় রাখবে, এবং পিজ্জোর বর্ণনা অনুযায়ী এটি হলিউডের মতোই একটি নাটকীয় গল্পের অংশ হয়ে থাকবে।



