গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের অডিটোরিয়াম হলরুমে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভোটের অধিকারকে হারিয়ে না ফেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের জানিয়ে দেন, ভোটের মাধ্যমে নাগরিকই সরকার গঠন ও সংসদে নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে পারে। এই বক্তব্যের পটভূমিতে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান উল্লেখ করা হয়, যেখানে ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগের মাধ্যমে সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবি জানায় এবং হাশিনার নেতৃত্বে থাকা সরকারকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
উক্ত সভায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং স্থানীয় শিক্ষকবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি মূলত গণভোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। আসিফ নজরুলের বক্তব্যের সময় তিনি ভোটের অর্থকে সরকারের নির্বাচন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করে কে সংসদে তার প্রতিনিধিত্ব করবে।
আসিফ নজরুল পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেন, বিশেষ করে গত পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে তিনি ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই শাসনকালীন সময়ে জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে এবং দেশকে বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, শাসক দল অবৈধভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
ভোটের মাধ্যমে বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল ‘হ্যাঁ’ ভোটকে ইতিবাচক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন, যদি নাগরিকরা অন্যায়ের বিরোধে দাঁড়াতে চান, তবে ‘না’ ভোটই দিতে হবে। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, এবার প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে বসবাসকারী বাঙালারাও ভোটের সুযোগ পাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, যারা হাদি হত্যাসহ গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচারের দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। তারা আসিফ নজরুলের মন্তব্যকে ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করে এবং স্লোগান শুরুর মাধ্যমে তার বক্তব্যের প্রতি বিরোধ প্রকাশ করে। এই পরিস্থিতিতে উপদেষ্টা তৎক্ষণাৎ হলরুম ত্যাগ করেন, যা সভার পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা, বিশেষত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট, পরিস্থিতি শমনের চেষ্টা করেন এবং সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শিক্ষকদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা শিক্ষাক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটের গুরুত্ব ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে মতামত প্রদান করেন।
আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের দিকে দৃষ্টিপাত করছেন। তিনি যে ভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের পার্থক্য তুলে ধরেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশে বসবাসকারী বাঙালার ভোটের অংশগ্রহণ দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
সারসংক্ষেপে, গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের এই মতবিনিময় সভা ভোটের অধিকার সংরক্ষণ, সরকার সমালোচনা এবং বৈদেশিক ভোটারদের অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে। আসিফ নজরুলের বক্তৃতা ভোটের মাধ্যমে নাগরিকের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও দেশের উন্নয়নের আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও তা কিছু ছাত্র নেতার কাছ থেকে তীব্র বিরোধের মুখোমুখি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আলোচনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



