রাবাতের আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনালে সেনেগালের ক্যাপ্টেন সাদিও মানে দলের বিশৃঙ্খলা রোধে শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। শেষের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি দেওয়া নিয়ে দলটি তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়ে, তবে মানের শীতলতা পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের শেষ আফকন ম্যাচ হওয়ায় তার দায়িত্ববোধ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের আট মিনিটে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তে সেনেগাল দলটি মাঠ ছেড়ে যায়। পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল যখন আবদুলায়ে সেক এবং আচারাফ হাকিমি হেডার লড়াইয়ে সামান্য সংস্পর্শে আসে, ফলে রেফারির সিগন্যাল শীঘ্রই বাজে। এই মুহূর্তে ইসমাইলা সারের শট লাইন পার করে গলে যাওয়ার আগে ভিএআর হস্তক্ষেপের সুযোগই না পায়।
কয়েক মিনিট পর, ভিএআর আবার হস্তক্ষেপ করে এবং এল হাজি মালিক দিউফকে ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে কোণার লড়াইয়ে সামান্য সংস্পর্শের জন্য পেনাল্টি দেয়। এই সিদ্ধান্তও সেনেগালের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। দলটি ইতিমধ্যে রেফারিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল, কারণ পূর্বের রাউন্ডে তানজানিয়া, ক্যামেরুন এবং নাইজেরিয়া দলগুলো মরক্কোর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিল।
সেনেগাল দলটি স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রতি অভিযোগের তালিকা জমা দিয়েছে। তারা রাবাত-আগদাল রেলস্টেশনে নিরাপত্তার অভাব, ট্যাংগির থেকে আগমনের সময় অপর্যাপ্ত বাসস্থান এবং ট্রেন সেবার অপ্রতুলতা নিয়ে অভিযোগ করেছে। এই অভিযোগগুলো দলের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে, যা পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পরের উত্তেজনায় প্রতিফলিত হয়।
মানের শীতলতা এই মুহূর্তে দলের জন্য এক ধরনের সান্ত্বনা হয়ে ওঠে। তিনি দলের সদস্যদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেন। তার নেতৃত্বে দলটি অবশেষে মাঠে ফিরে আসে এবং ম্যাচটি চালিয়ে যায়। যদিও তিনি নিশ্চিত করেন যে এটি তার শেষ আফকন ম্যাচ, তবু তিনি শেষ পর্যন্ত দলের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
মানের ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি অর্ধফাইনালে জয়ী গোল করেন, ২০২২ সালে মিশরের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফে পেনাল্টি দিয়ে দলকে অগ্রসর করেন এবং ২০২১ সালের ফাইনালে সিদ্ধান্তমূলক পেনাল্টি দিয়ে সেনেগালকে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়ে যান। এই সাফল্যগুলো তাকে আফ্রিকান ফুটবলে এক কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ফাইনালের বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও, মানের শান্তিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার নেতৃত্বের ফলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। রেফারিং নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং আয়োজক কমিটির প্রতি অভিযোগের পরেও, দলটি সমন্বিতভাবে খেলতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি আফ্রিকান ফুটবলে রেফারিং মানদণ্ডের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সেনেগালের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রেফারিং ও আয়োজক সংস্থার প্রতি সতর্কতা বাড়াবে বলে ধারণা করা যায়। মানের শেষ আফকন ম্যাচের পর তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবদান অব্যাহত রাখবেন, তবে এই শেষ ম্যাচে তার শীতলতা এবং দায়িত্ববোধই তার উত্তরাধিকারকে আরও দৃঢ় করবে।



