ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধে মৃত্যু ৭ জানুয়ারি তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে ঘটেছে। মুসাব্বিরের মৃত্যুতে তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম শোক প্রকাশ করে এবং তেজগাঁও থানা-এ অজ্ঞাতনামা চার‑পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সংশ্লিষ্ট তিনজন সন্দেহভাজন বিল্লাল (২৯), আব্দুল কাদির (২৮) ও রিয়াজ (৩১) গ্রেফতার হন। প্রথম রিমান্ডের সময় ১২ জানুয়ারি অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তিনজনকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সেই রিমান্ডের শেষের দিকে, তদন্তকারী কর্মকর্তা বিল্লালের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালতে শোনার পর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাত হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ তিন দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন।
অন্যদিকে, একই শোনার সময় আব্দুল কাদির ও রিয়াজের রিমান্ড শেষ হওয়ায় তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত দুজনকে জেলে রাখার আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে।
তেজগাঁও থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, পুলিশ উপ-পরিদর্শক আরিফুর রহমান এই রিমান্ড ও জেলায় স্থানান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রিমান্ডের সময় সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলবে।
বিল্লালকে দ্বিতীয় রিমান্ডে পাঠানোর পাশাপাশি, আদালত তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গুলিবিদ্ধের গুলি চালানোর সরঞ্জাম, গুলি এবং সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।
আব্দুল কাদির ও রিয়াজের ক্ষেত্রে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলে রাখা হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন। এদিকে, দুজনকে রিমান্ডের সময় কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়নি।
মামলায় আরেকজন সন্দেহভাজন জিন্নাত স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের সামনে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। জিন্নাতের স্বীকারোক্তি মামলার তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে।
মোসাব্বিরের হত্যার তদন্ত এখনো চলমান। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, গুলির উৎস, গুলি চালানোর সময়ের সুনির্দিষ্ট সময় এবং গ্যাংয়ের সংগঠন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজ অবশিষ্ট রয়েছে। আদালত পরবর্তী শোনার তারিখ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রিমান্ডের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে।
মামলার সকল ধাপের তথ্য তেজগাঁও থানার অফিসিয়াল রেকর্ডে নথিভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশ বিভাগ থেকে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযুক্তদের নাম প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমানে রেকর্ডে উল্লেখিত তিনজন সন্দেহভাজনের অবস্থানই প্রধান দৃষ্টিতে রয়েছে।



